চট্টগ্রামে নির্বাচন মনিটরিংয়ে ভিজিল্যান্স টিম ও সেল গঠন

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নানা প্রস্তুতি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
40

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নানা প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন তদারকি কিংবা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে। গঠন করা হয় নির্বাচন মনিটরিংয়ে ভিজিল্যান্স টিম ও সেল। চট্টগ্রামে নির্বাচন তদারকি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে ‘আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সেল’ এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সেলে রয়েছেন মোট ১১ জন। একইভাবে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের দেয়া চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় এ ধরনের সেল ও টিম গঠনের তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্বাচন সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টিতে কমিশনের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনাগুলো ভুমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলেও এ দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। ইসির ১৬ দফা নির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মস্তান, সন্ত্রাসী ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভোটের আগে-পরে নির্বাচনী এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি সব দল ও প্রার্থীর প্রতি সমআচরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকেও মাঠে নামার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিপুর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন ও সুসংহত করাই ‘আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সেলের’ লক্ষ্য বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
এ সেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সাথে রয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি চট্টগ্রামের মেজর কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ডেন্ট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার (সংশ্লিষ্ট), র‌্যাব-৭ এর সহকারি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাশকুর রহমান, সাতকানিয়ার সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার, মাস্টার চীফ পোর্ট অফিসার, বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার। এ সেল নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃংখলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃংখলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সর্ম্পকে গৃহীত ব্যবস্থা নির্বাচন সচিবালয়কে অবহিত করবে। এ সেল গঠনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে ঢাকাস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে। এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও এ নিরপেক্ষতা যাতে জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয় তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের ‘ ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করা হয়। এ টিমে আরো রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), সিভিল সার্জন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ার ও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি ভঙ্গ ও ভঙ্গ হওয়ার আশংকা রয়েছে কিনা বা নির্বাচনী প্রচারণা ও ব্যয় বাবদ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে কিনা তা সরেজমিন পরিদর্শন করতে হবে। একইসাথে নির্বাচনের আচরণবিধির অন্যান্য বিধি-বিধান পালিত হচ্ছে কিনা তাও দেখবেন টিমের সদস্যরা।
আচরণবিধি ভঙ্গের কোন কারণ নজরে আসা মাত্রই নির্বাচনী তদন্ত কমিটিকে জানাতে হবে। অন্যান্য বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা করার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতেও অভিযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে উদ্ভুত সমস্যাবলী তাৎক্ষণিক নিরসনে পরার্মশ দিতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় পরিস্থিতির উপর তিনদিন পরপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।
ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের কার্য পরিধিতে আরো বলা হয়, প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ আচরণ বিধিমালার কোন বিধি ভঙ্গ করলে বা ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে। নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন না করলেও তাৎক্ষণিক নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠনের অফিস আদেশের এ কপির অনুলিপি ঢাকাস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উল্লেখিত সেল ও টিম গঠন করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

x