চট্টগ্রামে দুই অফিস থেকে ১ বছরে ২ লক্ষাধিক পাসপোর্ট ইস্যু

রাজস্ব আয় ৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বেশি

সবুর শুভ

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
267

চট্টগ্রামের দুই পাসপোর্ট অফিস থেকে গত বছর দুই লক্ষাধিক (২ লাখ ৭ হাজার ১৪৪টি) পাসপোর্ট চট্টগ্রামের মানুষের হাতে গেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডারে যোগ হয়েছে ৮৫ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৮৫ টাকা। ২০১৭ সালে ২ লাখ ৭৪৯ টি পাসপোর্ট চট্টগ্রামের মানুষের হাতে যায়। এসময়ে রাজস্ব এসেছে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬৩ টাকা। মনসুরাবাদ পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস এবং পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে এ হিসাব পাওয়া গেছে। দুই বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাসপোর্ট বিতরণ ও রাজস্ব আয় দুটোই বেড়েছে। এটা পাসপোর্ট সেবার গতি ত্বরান্বিত হওয়ার প্রমাণ বলে জানালেন মনসুরাবাদ ও পাচঁলাইশ অফিসের দুই পরিচালক।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, জরুরি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৩৯টি। সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৯৩ হাজার ৪৯৪টি এবং ৫২৩ টি অফিসিয়াল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সবমিলে এক বছরের মধ্যে মনসুরাবাদ অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩ টি পাসপোর্ট মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এসব পাসপোর্ট থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪৪ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার ২৫৬ টাকা।
২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, মনসুরাবাদ অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ২ হাজার ৫২০ জন। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৯২টি পাসপোর্ট। ওই বছর ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে যোগ হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মনসুরাবাদ অফিস থেকে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ৯ হাজার ৭০১টি পাসপোর্ট বেশি বিতরণ হয়েছে। রাজস্ব আয় বেড়েছে ৮ কোটি ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ টাকা। এ বিষয়ে মনসুরাবাদ পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ৩১ জন জনবল নিয়ে আমরা এত বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দেয়ার কাজ করছি। গত এক বছরে সোয়া লাখ পাসপোর্ট এ অফিস থেকে চট্টগ্রামের মানুষের হাতে তুলে দিয়েছি। একই সাথে সরকারি কোষাগারে এ অফিসের অবদান হচ্ছে সাড়ে ৪৪ কোটি টাকার বেশি।
তিনি আরো বলেন, মানুষকে সেবা দিতে কাজ করছেন এ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর প্রমাণ ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর পাসপোর্ট বিতরণ ও রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি। এদিকে পাচঁলাইশ অফিস থেকে গত এক বছরের হিসাব থেকে জানা গেছে, ৯৯ হাজার ২২৭ জন এখানে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ রয়েছে ৭৭ হাজার ৯৬৬, জরুরি ২০ হাজার ৯৬৭ ও অফিসিয়াল পাসপোর্টের জন্য আবেদন পড়েছে ২৯৪টি। এর মধ্যে এ অফিস থেকে মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ৯৫ হাজার ৫১টি পাসপোর্ট।
সরকারি কোষাগারে এ অফিস থেকে রাজস্ব জমা হয়েছে গত বছরে ৪০ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৯ টাকা।
২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৯৯ হাজার ৯০৬ জন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ আবেদনকারী ছিলেন ৮১ হাজার ৪৯৮ জন। জরুরি ১৮ হাজার ১০৩ ও অফিসিয়াল পাসপোর্টের আবেদনকারী ছিলেন ৩০৫ জন। এক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব এসেছে ৪০ কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৩ টাকা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর পাসপোর্টের আবেদন থেকে বেশি রাজস্ব এসেছে ৮২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৬ টাকা।
এ বিষয়ে পাচঁলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা জানান, পাসপোর্ট সেবায় আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি উল্লেখিত ডাটা তারই প্রমাণ। এক্ষেত্রে আমরা মানুষের হাতে পাসপোর্ট তুলে দিতে পেরেছি ৯৫ হাজার ৫১টি। সরকারি রাজস্বে এ অফিসের অবদান প্রায় ৪১ কোটি টাকা।
তবে পাসপোর্ট সেবায় অপূর্ণতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে এখানে এসে মানুষ শতভাগ সন্তুষ্ট চিত্তে সেবা নিশ্চিত করতে পারেন।
তথ্য মতে, মনসুরাবাদ অফিস থেকে নগরীর বন্দর, ডবলমুরিং (সদরঘাট), সীতাকুণ্ড, পাহাড়তলী (আকবরশাহ), মীরসরাই, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, রাউজান, বায়েজীদ, খুলশী, ভূজপুর, সন্দ্বীপ, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম পোর্ট ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দাদের পাসপোর্ট ইস্যু করে। একইসাথে এ অফিস ভিসা প্রদানের কাজটিও করে থাকে। বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালী এবং নগরীর কোতোয়ালী, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও চকবাজার (পাচঁলাইশ ও কোতোয়ালীর অংশ) এলাকার আবেদনকারীদের পাচঁলাইশ অফিস থেকে ইস্যু করা হয় পাসপোর্ট।

- Advertistment -