চট্টগ্রামে আরো ৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৬ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
188

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গতকাল সোমবার ৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালে ২৮ জন, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ১০ জন এবং সিটি কর্পোরেশনের পরীক্ষায় ১ জনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত্রের জানা গেল। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব দেখা যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৩৮৭ জন আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবারের সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একদিনে ৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে চিকিৎসা নিতে।
এদিকে শুরুতে চমেক হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগে তিনটি ওয়ার্ডে আলাদা ব্লক করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল ডেঙ্গু আক্রান্তদের। তবে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি এদের চিকিৎসা দিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুধু ডেঙ্গু রোগী রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা চলছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মীরসরাইয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান ১০ দিন চিকিৎসাধীন। জ্বর নিয়ে ভর্তি হলেও পরে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শুরুতে তার অবস্থা খারাপ থাকলেও এখন সুস্থতার পথে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখছেন। হাসপাতাল থেকে ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় পরিচ্ছন্ন। এদিকে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ জানান, ন্যাশনাল গাইডলাইন মেনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্লক করে চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখন আলাদা ওয়ার্ডে দেওয়া হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক শুধু ডেঙ্গু রোগী দেখছেন। এতে সেবার গতি বাড়ার পাশাপাশি রোগীরাও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আগে তিনটি ব্লকে ৬০টি শয্যা ছিল। এখন সেটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ আক্রান্তের অবস্থা ভালো। কয়েকজন রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল, তবে তারা সেরে উঠেছে। এদিকে অসচ্ছলদের বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা এনএসওয়ান করানোর সুযোগ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গত শনিবার রোগী এসেছিল ৩১ জন। পরেরদিন ছিল ৩২ জন। গতকাল আসল ৩৯ জন। ক্রমবর্ধমান রোগীর চিকিৎসা দিতে ডাক্তারদের হিমশিম অবস্থা হলেও তাঁরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।

x