চট্টগ্রামের বিশেষ শিল্পাঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান চেম্বার সভাপতির

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
31

চট্টগ্রামের বিশেষ শিল্পাঞ্চলে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন-জাপান সরকার জাইকার মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। জাপান এসএমই সেক্টরের উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলেছে যা বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল। আমাদের এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হলো নারী উদ্যোক্তা। তাই নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং পরামর্শমূলক সহায়তার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক ও বেসিক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাপানি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে ‘দ্যা রোল অব এসএমই ইন দ্যা ন্যাশনাল ইকোনমি-দ্যা কেস অব জাপান এন্ড হাউ বাংলাদেশ শুড গো এহেড’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটি, চট্টগ্রাম এওটিএস এলামনাই সোসাইটি এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন-এ সেমিনার বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সেমিনারে জাইকা চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা বলেন-বাংলাদেশ বিগত এক দশকে আশাতীত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য। জাইকা চীফ চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিল্প ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছে যাদের সহযোগিতায় জাপান এগিয়ে আসতে পারে।
আইকোসা’র সভাপতি সালাহ্‌উদ্দীন কাসেম খান বলেন-দেশের প্রতিটি চেম্বারে এসএমই’র জন্য আলাদা সেকশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসএমই জোন স্থাপনের প্রস্তাব করেন। আইকোসা প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রবন্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের এসএমই খাতে সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরেণ। আইকোসা স্টিয়ারিং কমিটির মেম্বার সেক্রেটারী ড. এ. কে. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন আইকোসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। সিএএএস’র প্রেসিডেন্ট সাইফুদ্দিন আহমেদ মনে করেন মানবসম্পদের দক্ষতা ও আর্থিক প্রণোদনা, যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় এদেশের এসএমই খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যা থেকে উত্তরণ হওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ও জাপানে এসএমই খাতের ভূমিকা শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইকোসা’র প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধি দলের নেতা প্রফেসর ড. নাওহিরো কুরোসী। এছাড়া সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. সালেহ জহুর বাংলাদেশের এসএমই খাতের উপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। সেমিনারে মূল বিষয়ের উপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম উদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্‌তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মো. জহুরুল আলম, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল) ও অঞ্জন শেখর দাশ, প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ, ওম্যান চেম্বার নেত্রীবৃন্দসহ অনেকে অংশ গ্রহণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x