চট্টগ্রামের উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার দুই প্রকল্প

একনেক সভায় উঠতে পারে আজ ।। সাব স্টেশন নির্মাণসহ বসবে নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন যানজট কমাতে নির্মাণ করা হবে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
147

চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ খাত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প আজ অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রকল্প দুটি হলো- ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন’ এবং ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকায় ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস/ট্রাক টার্মিনাল’ নির্মাণ।
আজকের একনেক সভাটি চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-২০১৯) ১০ম সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত মঙ্গলবারও একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আগামী ১০ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর একনেকে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া যায় না। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পের চাপ থাকায় দু’দিনের মাথায় আবারো একনেক সভা আহ্বান করা হল।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন : বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় ২৬টি নতুন সাব স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৭টি সাব স্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ৮৩ কিলোমিটার ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন স্থাপন, ৮০০ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং আধুনিক ও উন্নতমানের ট্রান্সফরমার বসানো হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পিডিবি বিতরণ চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পটি ছিল চার হাজার কোটি টাকার। পরবর্তীতে আড়াই হাজার কোটি টাকায় পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদন দেয়া হয়। আমাদের সচিব মহোদয়ের আন্তরিকতার কারণে এটি পিইসি সভায় অনুমোদন পেয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলেও জানান তিনি।
অবকাঠামো উন্নয়ন :
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় শহরের ৩২০ দশমিক ০৭ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হবে। এতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫৫ কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ‘এপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ ব্রিজ নির্মাণ’ করা হবে ৩৭টি। এতে ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, এর ড্রেনেজসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় হবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভূমি ক্রয় করা হবে ২৬০ কোটি ৫ লাখ টাকার।’
প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা। র্দীঘদিন ধরেই নগরীতে ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণের দাবি ছিল বিভিন্ন মহলের। বন্দর থাকায় চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার ছোট-বড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি আসা-যাওয়া করে। এর সঙ্গে আছে তিন পার্বত্য জেলা, কঙবাজারসহ আন্ত:জেলার যানবাহন। টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হত। এমন পরিস্থিতিতে চসিক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গৃহীত প্রকল্পটির আওতায় বায়েজিদের অঙিজেন এলাকার কুলগাঁওয়ে এলাকায় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গায়।
এদিকে প্রকল্পটির ডিপিপিতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন করা, যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, রাস্তার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নীতকরণ এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বিশেষ একনেক সভা হবে আগামীকাল (আজ)। সভায় আমাদের ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকার প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন। সভায় উপস্থিত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে এ প্রকল্পে ‘ম্যাচিং ফান্ড’ মওকূপে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবেন বলেও জানান মেয়র।
প্রসঙ্গত, ম্যাচিং ফান্ড হচ্ছে- মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৮০ শতাংশ সরকার এবং বাকি ২০ শতাংশ চসিককে নিজস্ব ফান্ড থেকে ব্যয় করতে হবে। চসিক থেকে ব্যয়কৃত অংশটিই ম্যাচিং ফান্ড। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ ম্যাচিং ফান্ডের যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়। এ জন্য ম্যাচিং ফান্ডের অর্র্থ সরকারি ফান্ড থেকে দেয়ার জন্য প্রকল্পটির পিইসি সভায় চসিকের পক্ষে অনুরোধ করা হয়েছিল। তখন চসিকের যুক্তি ছিল, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। চসিকের যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয় তার অধিকাংশ অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা দেওয়ার পর কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজস্ব অর্থের সংস্থান করা দুরূহ।’ কিন্তু আইনগত জটিলতা থাকায় পিইসি সভায় ম্যাচিং ফান্ড বহাল রেখেই অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। তবে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ ম্যাচিং ফান্ড রহিত করতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

x