চট্টগ্রামেই হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম আধুনিক কসাইখানা

ব্যয় ৮৮ কোটি টাকা

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
1099

চট্টগ্রাম শহরেই হতে যাচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানা (স্লটার হাউজ)। নগরীর চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় এ কসাইখানা নির্মাণে ব্যয় হবে ৮৮ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮৮ শতক জায়গায় এ কসাইখানা নির্মাণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তা পরিচালনার জন্য চসিকের কাছেই হস্তান্তর করবে। কসাইখানাটি নির্মিত হলে নগরীতে পশু জবাই ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে এবং তা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)’র সভায় ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। ওই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে আধুনিক কসাইখানাটি নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারিভাবে নির্মিত সর্বোচ্চ মানের আধুনিক
কোনো কসাইখানা নেই। তবে পাবনায় বেসরকারিভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশে গড়ে উঠা একটি আধুনিক কসাইখানা রয়েছে। সে হিসেবে চট্টগ্রামের কসাইখানাটি হবে দেশের প্রথম আধুনিক ‘স্লটার হাউজ।’
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আমাদের কাছে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণে জায়গা চেয়েছিল। আমরা চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় ৮৮ শতক জায়গা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আজ (গতকাল) একনেক সভায় কসাইখানা নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক কসাইখানাটিকে ঘিরে নগরীতে গবাদি পশু সংক্রান্ত একটি বড় মাপের একটি ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন, স্মার্ট স্টকিং স্পেস সুবিধা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, রক্ত ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট শৃঙ্খলা। এছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন ও জবাই এরিয়া করা হবে। পশুর নাড়িভুঁড়িসহ শিং ফেলে না দিয়ে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা থাকবে এই কসাইখানার আওতায়। এখানে পশু জবাই করার আগে একজন চিকিৎসক সে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখবেন। জবাইয়ের পর এর মাংসও পরীক্ষা করা হবে। পশুর রক্তকে পোলট্রি ফিডে রূপান্তর করা হবে এবং অন্যান্য বর্জ্যগুলোও রিসাইক্লিং করা হবে।
জানা গেছে, গত জুন ৩ জুন কসাইখানা নির্মাণ বিষয়ে নগর ভবনে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে বৈঠক করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক। ওই বৈঠকে মেয়র জায়গা প্রদানে সম্মতি দেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ডেইরি রেভুলেশন অ্যান্ড মিট প্রোডাকশন (ডিআরএমপি) প্রকল্পের আওতায় কসাইখানাটি নির্মাণ করা হবে। সিটি কর্পোরেশন আমাদের জায়গা দিয়েছে, ওই জায়গায় আমরা স্লটার হাউজ নির্মাণ করব। নির্মাণ শেষে তা সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করব। অর্থাৎ মালিকানা থাকবে সিটি কর্পোরেশনের। তারাই পরিচালনা করবে। ঢাকা ও খুলনা কিন্তু কসাইখানার জন্য জায়গা দিতে পারছে না। সেই জায়গা থেকে চট্টগ্রামেরটি হবে দেশের প্রথম আধুনিক কসাইখানা। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়ও।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এ কর্মকর্তা বলেন, এখানে জবাইকৃত পশুর মাংস পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে মান নিশ্চিত হবে। যেখানে-সেখানে পশু জবাই বন্ধ হলে পরিবেশও ঠিক থাকবে। রোগ-বালাই আছে এমন গরু জবাই করা বন্ধ হবে। যেখানে মাংস বিক্রি করা হবে সেখানে পৌঁছে দেয়ার জন্য কুল-ভ্যান ক্রয় করা হবে। এই ভ্যানে করেই মাংসগুলো পৌঁছে দেয়া হবে। প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ৮০ কোটি টাকা ছিল। এখন আরো বেড়েছে। ৮৮ কোটি টাকায় এ স্লটার হাউজ নির্মাণ করব।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) থেকে আশির দশকে কালুরঘাটের বিএফআইডিসি রোডসংলগ্ন এলাকায় ১১ দশমিক ৪৮ একর জায়গা বরাদ্দ নেয় চসিক। তখন এ জায়গায় চসিক ‘যান্ত্রিক কসাইখানা’ তৈরির ঘোষণা দেয়। তবে নানা জটিলতার কারণে সেখানে আর কসাইখানা তৈরি করতে পারেনি সংস্থাটি।

x