চকরিয়ায় সমতলে পানি কমলেও বাড়ছে উপকূলে

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ছুটি বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের

চকরিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
12

অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে মাতামুহুরি নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি চকরিয়ায় সমতল ইউনিয়নগুলো থেকে নামতে শুরু করলেও উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে। উপকূলীয় কোনাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন এখনো পানির নিচে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে ফের ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এবারও হুমকির মুখে পড়েছে চিরিঙ্গাঘুনিয়া সড়ক তথা এক নম্বর গাইড বাঁধটি। মাতামুহুরি নদীর প্রবল স্রোতের মুখে যে কোনো মুহূর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই গাইড বাঁধটি ভেঙে শত শত বসতবাড়িসহ বিশাল এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে চট্টগ্রামকক্সবাজার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এদিকে মাতামুহুরি নদীর পানির তোড়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ভেঙে পড়ছে কোনাখালী ইউনিয়নের কন্যারকুর ও কুরইল্যারকুম বেড়িবাঁধ। কয়েকফুট উচ্চতায় বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলাসহ উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার থেকে এসব ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. তারেক বিন ছগীর জানান, লাগাতার বর্ষণ ও মাতামুহুরি নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল স্রোতের কারণে কোনাখালীর বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। ভেঙে যাওয়া এসব বেড়িবাঁধের অংশ মেরামত করা যাবে পানি নেমে যাওয়ার পর। তবে যেসব পয়েন্ট এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেখানে বালির বস্তা ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘সমতলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এবার আঘাত হানছে উপকূলের সাত ইউনিয়নে। এজন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোকে যথাসাধ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো লোকজন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রশাসনের সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সকল ধরনের ছুটি বাতিল করে বন্যার্তদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র এবং উঁচু ভবন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

x