চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী তীরে সবজি আবাদে লাভবান কৃষক

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
19

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর দুই তীরসহ বিস্তীর্ণজোড়া এলাকায় এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শীতকালীন সবজিসহ রকমারী ফসলের ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে উৎপাদিত সবজি তুলে তা বাজারেও বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এসব সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্যও। এতে কৃষকের মুখে বেশ হাসি ফুটেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের কোন বন্যা না হওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে আগাম মাঠে নামে প্রান্তিক কৃষকেরা। কিন্তু সাগরে লঘুচাপের কারণে কয়েকদফা বৃষ্টিপাত হওয়ায় সবজিক্ষেতের বেশ ক্ষতি হয়। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তবে সেই লঘুচাপের দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে পুরোদমে সবজির আবাদে মাঠে নামেন কৃষকেরা। গত দেড়মাস ধরে একনাগাড়ে সবজিক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটায় এসব কৃষক। এতে এখন ফলনও ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এসব সবজি খুচরা ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের পৌরসভার বিভিন্ন ব্লক ছাড়াও বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, কৈয়ারবিল, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুরসহ অন্তত ১০ ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার কৃষক মাঠে রয়েছেন সবজিচাষে।
মাতামুহুরী নদীর তীর ও কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নদীর চকরিয়া অংশের দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে আছে নদীর দুইতীর।
কৃষকেরা জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে বেগুন, মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার চাষ করা হয়। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে উৎ্‌পাদিত সবজি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রিও শুরু হয়েছে। এছাড়াও গাজর, সিম, লাউ, বরবটি, ঢেঁড়স, করলা, তিত করলা, লালশাক, পুঁইশাক, ধনিয়া পাতায় ভরে উঠেছে সবজিক্ষেতগুলো।
উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মাতামুহুরীর তীর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতিবছর নদীর তীরের প্রায় ৫ কানি জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেন তিনি। এবারও একই পরিমাণ জমিতে আগাম সবজিচাষে কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে দেড়মাস আগেই মাঠে নেমে পড়েন। ইতোমধ্যে তাঁর ক্ষেত থেকে টমেটো, বেগুন, মরিচ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রিও করা হয়েছে। গত একমাসে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা রকমারী সবজি বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন, চলতি শুষ্ক মৌসুম শুরুর দিকে লঘুচাপের কারণে কৃষকেরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখিন হয়। তবে এর পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও সবজি চাষে ফলন অন্য বছরের চেয়ে ভাল হবে। এতে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবো।’
চকরিয়া পৌরসভার লক্ষ্যারচর চরপাড়ার কৃষক আমিনুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘দেড়মাস আগে থেকে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চলছে ক্ষেতে। এতে পুরোদমে মাতামুহুরীর তীরসহ জমিতে ভরে উঠেছে সবুজে সবুজে। আর গত ১৫দিন আগে থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬ কানি জমি থেকে।’
চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের সিংহভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এবার বন্যা না হওয়ায় আগাম সবজিচাষে উদ্বুদ্ধ করা হয় তাঁদের। অন্য বছরের চেয়ে এবার সবজি উৎপাদনে ভাল করছেন এখানকার কৃষক। বিনিময়ে সবজির যথাযথ দামও পাচ্ছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, উপজেলায় শীতকালীন সবজিচাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার হেক্টর জমিতে। এবার বন্যা না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয় সবজিচাষে। এতে পৌরসভাসহ মাতামুহুরীর তীরের অন্তত ১০ ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার কৃষক সবজিচাষ করছেন। ইতোমধ্যে কৃষকেরা উত্‌পাদিত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে শুরু করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ আরো বলেন, বরাবরের মতো রামপুর-পালাকাটা ও বাঘগুজারা রাবার ড্যামের ধরে রাখা মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানি ব্যবহার করে এবারও সবজি উৎপাদনে রেকর্ড গড়বেন এখানকার কৃষক। এজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।চকরিয়ার বিভিন্ন সবজি আড়ত ও খুচরা বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রতিকেজি টমোটো পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। আর খুচরা বাজারে তা ভোক্তাপর্যায়ে মানভেদে ২০, ২৫ ও ৩০ টাকার মধ্যে। একইভাবে অন্যান্য সবজিও ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।

Advertisement