ঘ্রাণ

ইলিয়াস কামাল রিসাত

মঙ্গলবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
44

আগে তো ক্যাম্পাসে ১০ টাকায় একটা চা, ছমুচা, সিংগারা, চপ খেয়ে বইমেলার গেটে দাঁড়াতাম। পুলিশের পাশাপাশি কিছু মৌসুমী লেখকের বইয়ের ভিজিটিং কার্ড বিলি করতে দেখতাম উশকু-খুশকু কিছু পোলাপানকে। তাদের বিলি করা ভিজিটিং কার্ডে লেখা থাকত- এবারের বইমেলায় সাড়া জাগানো নাগরিক লেখক তৌহিদুর রহমানের ‘এ কোন ঝড়ের রাতে’ আজই সংগ্রহ করুন!
তৌহিদুর রহমান দিয়ে অভ্যর্থনা, আর বের হবার পরে কলকাতার লেখকদের বহুল জনপ্রিয় বই ফুটপাতে নীলক্ষেতের মত কম দামে বিক্রির দৃশ্য দিয়ে বিদায় হতো। সাথে পাওয়া যায় ‘নরক হতে বাঁচবার ১০১ উপায়।’ অভ্যর্থনা আর বিদায়ের মাঝখানে সব বইয়ের দোকানে ঢুকে জগতের যত জ্ঞান সব মাথায় করে নিয়ে বাড়ি যাবার উদ্ভট ইচ্ছা মাথায় জাগত। এবার সে ইচ্ছা প্রকাশের স্পেসটুকু নাই।
প্রিয় স্টলগুলাতে সবার পরে যেতাম। আলু ভর্তা, ডাল, অন্যান্য সব চমৎকার পদের খাবার একসাথে খাওয়ার সময় আলু ভর্তা যেমন পরে খাওয়ার জন্য রেখে দেই, তেমনি প্রিয় স্টলগুলোকে সবার পরে। একবার আমার এক মামা গোছের এক আত্মীয়কে মেলায় নিয়ে গিয়েছিলাম। বায়না ধরল- ঢাকা আসছি বইমেলায় না গেলে কি হয়? বাচ্চার জন্য কিছু শিক্ষামূলক বইও নেয়া যাবে। আমাকে বলল- সাজেস্ট করতে। আমিও খুশিমনে নিয়ে গেলাম। অতি উৎসাহের ঠেলায় ‘ছোটদের বিজ্ঞান’, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘উভচর মানুষ’ এসব বই তাকে কিনতে বললাম। তিনি অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করে বলেন- ‘চল আরো ঘুরি, ঝালমুড়ি খাই, ঘোরতে ভাল লাগতেসে!’ এরপরে বলল- ‘একটু হালকা বই দেখাও।’
আমি বললাম, হালকা বই কি? ১৮ প্লাস?
তিনি জিভে কামড় দিয়ে বললেন, ‘আরে না, তুমি তো মহা পাজি!’ এমনি পড়তে সহজ এমন কিছু দেখাও। আমি সবার বিবেক ডক্টর জাফর ইকবালের বইয়ের শরণাপন্ন হলাম। তিনি এতেও রাজি হলেন না। বললেন, ‘চল, বাংলা একাডেমি যাই। দেশের শিক্ষার অভিভাবক বলে কথা!’
বাংলা একাডেমির স্টলে ঢুকে প্রায় এক ঘন্টা সময় ব্যয় করে তিনি দুটি ডিকশনারি নিয়ে আসলেন। ‘ইংরেজী থেকে বাংলা’ ও ‘বাংলা থেকে ইংরেজী।’ আমাকে বললেন, কোনটা নিব বল? আমি তাকে দুটোই নিতে বললাম। তিনি আবার কি জানি ভেবে ‘ইউরেকা’ বলে লাফিয়ে উঠলেন। ‘আরে এসব ডিকশনারি তো আমাদের এলাকার রক্ষিত মার্কেটে পাওয়া যায়!’
এরপর মামাকে নিয়ে রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরে গেলাম। রক্ষিত মার্কেটে অনেক ছাড়ে তিনি একটা ডিকশনারি কিনে আমাকে জানালেন কিছুদিন পর।

বইমেলার স্মৃতি সতত মনে পড়ে। অবশ্য ২৬/২/২০১৫-এর পর থেকে বইমেলার একটা কর্ণারের আশেপাশে এখনো মনে হয় কেউ চাপাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

x