ঘোষণা সুতার এল বালি

বন্দরে কন্টেনার আটক

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
38

গাজীপুরের আমদানিকারক এন জেড এক্সেসরিজ চীন থেকে ২৫ টন পলয়েস্টার ইয়ার্ন (সুতা) আমদানির ঘোষণা দেয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার গুলশানের এঙ্মি ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়। কিন্তু সুতা আমদানি না করে প্রতিষ্ঠানটি কন্টেনার ভর্তি বালি-মাটি নিয়ে আসে। গতকাল বিকেলে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কন্টেনারটি বন্দরের ওভার ফ্লো ইয়ার্ড থেকে আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চীনের জিংগাং বন্দর থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থর্সউইন্ড নামক জাহাজে বালি-মাটি ভর্তি কন্টেনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠায় রপ্তানিকারক। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজটি আসে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। আগের দিন অর্থাৎ ২৯ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয় যার নম্বর-১৫১৩৭৪২। বিল অব এন্ট্রিতে চালানটি ইনভয়েস ভ্যালু উল্লেখ করা হয় ৩২ হাজার ১০ ডলার। চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য আসে ২৭ লাখ ৫৯ হাজার ২১২ টাকা। এছাড়া শুল্ক আসে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৩ টাকা। চালানের কন্টেনার নাম্বার-সিওএইউ-৭০২০৯৬৫৪৩০। এদিকে কন্টেনারটি চট্টগ্রাম বন্দরের ওভার ফ্লো ইয়ার্ডে নামার পর শুল্কায়ন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। খালাসের আগে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কন্টেনারটি আটক করে কায়িক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সুতার পরিবর্তে ৪০ ফুটের কন্টেনার ভর্তি বালি ও মাটির বস্তা পাওয়া যায়। চালানটি খালাসে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএন্ডএফ ছিল নগরীর শেখ মুজিব রোডের কালকিনি কমার্সিয়াল এজেন্সিজ লিমিটেড।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাস্টমসের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন দৈনিক আজাদীকে বলেন, চীন থেকে ২৫ টন সুতার ঘোষণায় ৪০ ফুট কন্টেনারে ভর্তি বালি-মাটি নিয়ে আসে আমদানিকারক। আমরা কায়িক পরীক্ষায় ২১ টন বালি-মাটির বস্তা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে এতে কোনো খনিজ পদার্থ আছে কিনা সেটি জানার জন্য আমরা বালি-মাটিগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠাবো। এছাড়া এ ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। আমদানিকারক ও সিএন্ডএফকে শো’কজ করা হবে। বালি-মাটির আনার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং হয়েছে কিনা বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটকে অবহিত করবো। এতে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

x