ঘুম নেই দর্জি পাড়ায়

সামনে ঈদ

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ৩ জুন, ২০১৯ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
40

যে কোনো উৎসবকে ঘিরেই নতুন পোশাক বানানোর রীতি বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ সময় মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েন নতুন পোশাকের পেছনে। ঈদ আর পুজো হলে তো কথাই নেই। সামনেই ঈদ। মুসলিম সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের এ দিনটি যতই ঘনিয়ে আসছে, এখানকার দর্জিপাড়ায় ততই বাড়ছে ব্যস্ততা ও মানুষের ভিড়। গ্রাহকদের চাপে এখন একেবারেই দিশেহারা তারা।নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে এখানকার এসব দর্জিদের, যেন দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। চকচকে ধারালো কাঁচির চালান ও ঘড়ঘড় মেশিনের শব্দ বিরামহীন চলছেই তাদের সময়ের পথচলা। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় অর্ধেক রোজা। এরি মধ্যে অনেক দোকানে অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তারা জানিয়েছে এতদিন যে অর্ডারগুলো তারা নিয়েছে সেগুলো ঈদের আগেই সময়মত সরবরাহ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ । তাই এখন আর কোন অর্ডার নেয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের। কারণ ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের নেয়া অর্ডারগুলো তৈরি করতে হবে ঈদের আগেই। সুতা, পুঁতি আর বাহারি ডিজাইনের চমক দেয়া নানারকমের পোশাক। সেলাইকৃত কাপড়ের উপর বাড়তি ডিজাইনের জন্য বিভিন্ন ধরনের লেইছ বসানোতে ব্যস্ত তারা। ভিন্ন-ভিন্ন দোকানে ভিন্ন ডিজাইনের গজ কাপড়, লেইস, পাথর, জরি চুমকি দিয়ে নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি হচ্ছে মন ভোলানো গরজিয়াস সব পোশাক-আশাক। ভাব যেন এমন আমারটাই হতে হবে বাজারে সবার সেরা। উপজেলা সদর ও আশেপাশের দর্জি দোকানগুলোতে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও এবার ঈদে গরমের কথা মাথায় রেখে সুতি কাপড়ের জামা-পাঞ্জাবির দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। মেয়েরা লঙ ড্রেসের কুর্তা, লেহাঙ্গা, দোপাট্টা ও থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পোশাক বেশি বানাচ্ছেন। অন্যদিকে ছেলেরা বেশিরভাগ সুতি ও আরামদায়ক কাপড়ের পাঞ্জাবির সঙ্গে শার্ট, প্যান্ট অর্ডার দিচ্ছেন। তবে পাঞ্জাবির সংখ্যাটি বেশি বলে জানা গেছে। উপজেলা সদরের লেবাস কুইন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ফরিদুল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, ডিজিটাল যুগের তরুণীরা এখন ইন্টারনেটে ডিজাইন দেখে পোশাক বানিয়ে থাকেন। বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় বানাতে আমাদের কাছেই আসেন। পোশাকের কারু কাজ করতে হয় বেশি, সময় ও লাগে তেমন। পোশাকের একটু উনিশ-বিশ হলেই খবর আছে, সেই পোশাক আবার ঠিক করে দিতে হয়। তাই খুবই সাবধানে এসব পোশাক কাটা ও সেলাইয়ের কাজ করতে হয় আমাদের। তিনি বলেন, রোজার শুরু থেকেই আমাদের রাত জেগে কাপড় সেলাই করতে হয় । এই ব্যস্ততা চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত। সৌদিয়া লেডিস টেইলার্সের মালিক ইউসুফ’ সহ কর্মচারীরা জানান, মূলত শবেবরাতের পর থেকেই আমাদের ঈদ কেন্দ্রিক পোশাক তৈরি শুরু হয়। সাধারণত আমরা ২০ রমজানের পরে আর অর্ডার নেই না। তবে নিজস্ব কিছু কিছু গ্রাহক আছে যারা পারমেনেন্ট তাদের অর্ডার না নিয়ে পারা যায় না। এখানকার এসব টেইলার্সের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- দেশে সব কিছুর যেমন দাম বেড়েছে, তেমনি কারিগরদের মজুরিও বেড়েছে। এক সেট সালোয়ার কামিজ সেলাই করতে আগে ২৫০-৩৫০ টাকা খরচ পড়তো, এখন লাগছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। সে তুলনায় তাদের নেয়া মজুরি অনেক কম।
তবে পোশাকের ডিজাইন অনুসারে তৈরির মূল্য নিচ্ছেন তারা। তারা বলেন, কুর্তা ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, নরমাল সূতি সালোয়ার তৈরিতে ২০০-২৫০ টাকা। শার্টে ৪০০, প্যান্টে ৫০০, পাঞ্জাবিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা না নিলে মজুরি খরচে পোষায় না । পৌরসদরস্থ খাজা মার্কেটের এক টেইলার্সে কাপড় ডেলিভারি নিতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী সাদিয়া আলম ইতু বলেন, ব্যস্ততা থাকেলেও পোশাক তৈরির বানি (মজুরি) মোটামুটি স্বাভাবিকের মধ্যেই আছে। পাঞ্জাবি বানাতে আসা শিক্ষক- সাংবাদিক মোঃ ফারুক ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরে পাঞ্জাবি চলে বেশি। তাই পাঞ্জাবি বানিয়ে নিলাম। পাঞ্জাবির মজুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় আগের মতোই রয়েছে। তেমন একটা বাড়েনি। সব মিলিয়ে বলা যায় ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে বোয়ালখালীর এসব দর্জি পাড়ায়।

x