গ্রেপ্তার নেই, উল্টো মহিউদ্দিনের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে খুনিরা

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১৪ মে, ২০১৮ at ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
1174

‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও।’ কথাটি তিন বছরের শিশু আদহামের। আদহাম নিহত যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহিদের একমাত্র সন্তান। মহিউদ্দিন খুন হয়েছে এক মাস উনিশ দিন। এর মধ্যে তার হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় মানুষ। খুনিদের বিচার দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনে আদহামকে নিয়ে এসেছিলেন মহিউদ্দিন মহিদের মা নূর ছেহের বেগম, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, চাচা হাজী মোহাম্মদ আলী মাষ্টার, ভাই মোহাম্মদ ইউছুফ, স্ত্রী সেনজিদা আক্তার ও দুই বোন হীরা আক্তার ও রূপা আক্তার। প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের দিন হালিশহরে মেহের আফজল স্কুলে ঢুকে প্রকাশ্যে খুন করা হয় যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহিকে।
সংবাদ সম্মেলনে শোকাহত শিশুটি কখনো মায়ের কোলে বসছে। আবার চেয়ার ছেড়ে উঠে যাচ্ছে। স্থিরতা নেই। তাদের চেয়ারের পেছনে একটি বড়ো ব্যানারে তার আব্বুর ছবি টাঙানো। আব্বু কি তবে আসবে আজ এখানে? প্রশ্ন ঘুরছে তার মনে। সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিনের স্ত্রী সেনজিদা পিঙ্কি বক্তব্য রাখেতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পিংকির কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি কথাই ছিল ‘আমার স্বামীর খুনিদের গ্রেফতার করুন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। যেন আর কোনো স্ত্রী স্বামীহারা না হয়। আর কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহিউদ্দিন মহিদের বোন হিরা আক্তার। তিনি বলেন, মহিউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মহিউদ্দিনের চাচা মইনু বলেন, মহিউদ্দিন হত্যার পর থেকে অভিযুক্তরা নানাভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে তারা। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবালের বিরোধিতা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন মহিদ খুন হন।
পুলিশ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে ৩ এপ্রিল গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেতে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীর বাসায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি হাজী ইকবালের ছেলে আলী আকবরসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। তবে যুব মহিলা লীগের ওই নেত্রীর সহায়তায় দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন হাজী ইকবাল।

x