গ্রীষ্মের খরতাপে কচি ডাবের পানিতে স্বস্তি

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ১৩ মে, ২০১৯ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
76

কাঠ ফাঁটা রোদ, রাস্তাঘাটে কর্মব্যস্ত মানুষের ঘর্মার্ত শরীরে হাঁসফাঁস। প্রায় সবখানেই গরমে অস্থির মানুষগুলোর বুক ফাটা তৃষ্ণা। কেউ কেউ একটু শীতল পরশের চেষ্টায় গাছের ছায়ায় দাঁড়ায়। আবার কেউ কেউ দোকানীর কাছ থেকে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানীয় কিনে নিয়ে তৃষ্ণার্ত বুকে একটু প্রশান্তি আনার চেষ্টা করে। ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানীয় শরীরে গিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য স্বস্তি অনুভব হলেও পরবর্তী সময়ে বুকের তৃষ্ণা আরো বাড়িয়ে দেয়। আবারো তৃষ্ণা বাড়িয়ে অস্থিরতার জন্ম দেয়। অস্বস্তিদায়ক এই ধরণের আবহাওয়ায় কদর বাড়ে ডাবের। এসময়ে যাদের নারিকেল গাছে (ডাব) ফলন হয় তাদের কপাল খুলে। প্রতিটি কচি ডাবে পাওয়া যায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম। বলা যায়, আমাদের গ্রামীণ জনপদের অনেক এলাকায় নারিকেল গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে কাঠবিড়ালীর উৎপাতে ফলন নষ্ট হওয়ায় লোকজন নারিকেল গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহ হারাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের উপজেলা সমূহে এখনো বাণিজ্যিক ভাবে সারি সারি নারিকেল গাছ লাগানো হচ্ছে। ওসব অঞ্চল থেকে দেশের মানুষ এখনো পাচ্ছে ডাব আর নারিকেল।
এই সময়ে গ্রীষ্মের কাঠ ফাঁটা রোদের কারণে সৃষ্ট দাবদাহের যন্ত্রনায় যারা কাতর থাকে তাদের মতে এ ধরণের আবহাওয়ায় তৃষ্ণার্ত শরীরের জন্য বড় প্রয়োজন কচি ডাব। কচি ডাবের পানি পানে তীব্র দাবদাহে স্বস্তি মিলে তৃষ্ণার্ত বুকে। স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি হিসাবে ডাবে আছে অনেক গুন। ডাবের পানি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। স্বাস্থ্য সেবী লোকজনের মতে ডাবের পানি যেকোনো কোমল পানীয় থেকে অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। এটি সৌন্দর্যচর্চার প্রাকৃতিক মাধ্যম ও চর্বিবিহীন পানীয়। ডাবের পানি মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী। অনেকেই মনে করেন প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যায় ডাবের পানিতে উপকার পাওয়া যায়। মুখে জলবসন্তের দাগসহ বিভিন্ন ছোট ছোট দাগ ডাবের পানিতে পরিষ্কার হয়ে মুখের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বাড়ে। গ্লুকোজ স্যালাইন হিসেবেও ডাবের পানি ব্যবহৃত করা যায় বলে অনেকেই বলে থাকেন। আবার এই ডাবের পানি পান নিয়ে সতর্ক বাণীও রয়েছে। নিষেধ করা হয় কিডনি রোগ হলে ডাবের পানি পান করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ কিডনি অকার্যকর হলে শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম দেহ থেকে বের হয় না। ফলে ডাবের পানির পটাশিয়াম ও দেহের পটাশিয়াম একত্রে কিডনি ও হৃদপিণ্ড দুটোই অকার্যকর করে। এ অবস্থায় রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। সর্বোপরি ডাবের পানি রোগীকে পান করানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।মানব দেহে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব হলে এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ হলে ডাক্তাররা ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন। ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও বমি হলে ডাবের পানিতে উপকার পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে ডাবের পানিতে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতিও উচ্চমাত্রায়। এসব খনিজ লবণ দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। দাঁতের মাড়িকে মজবুত করে ।

x