গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা!

কমার্স ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, বরখাস্ত

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৫ জুলাই, ২০১৮ at ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
353

গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে তারা কোটিপতি হতে চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার এ দুই কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকগণ এ ব্যাপারে বিক্ষোভ করেন ব্যাংকের সামনে।

দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, নিজের কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ৩৯ জন গ্রাহকের ২ কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের দুই কর্মকর্তা। এছাড়া একটি পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে আরো ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তারা।

অবশেষে গত সোমবার ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার মঈন উদ্দিন আহমেদ এবং অফিসার (ক্যাশ) মনিরুল ইসলামের নামে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা। একই অপরাধে এ দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মঈন উদ্দিন আহমেদের বাড়ি নগরীর দামপাড়া এলাকায়। তার বাবা মৃত মকবুল আহমেদ। মনিরুল ইসলামের বাবা মৃত এম এ মান্নান। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজাদীকে জানান, গ্রাহকের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ও ভুয়া পেঅর্ডার তৈরি করে গ্রাহকের ২ কোটি ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭৭ () এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫() ধারায় একটি মামলা হয়েছে অভিযুক্ত দুই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মামলাটি দুদক তদন্ত করবে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই মঈন উদ্দিন আহমেদ কমার্স ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক্সিকিউটিভ অফিসার বা ওই শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। মঈন উদ্দিন আহমেদের পাসওয়ার্ডে ওই ব্যাংকের লেনদেন হত। আসামি মঈন উদ্দিন এবং মনিরুল ইসলাম পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে বিধি বহির্ভূতভাবে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার ৩৯ জন গ্রাহকের ২ কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যদিও পরে ব্যাংক বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের ওই অর্থ পরিশোধ করেছে। এছাড়া একটি পেমেন্ট অর্ডারের (নম্বর০১৫৫২৭৪) বিপরীতে আরো ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে সেটা রেজিস্ট্রারে জমা না দেখিয়ে দুই কর্মকর্তা মিলে আত্মসাৎ করেন। অর্থাৎ অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা মোট ২ কোটি ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ২০১৫ সালের ১ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ কয়েকজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন গ্রাহকরা ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও দুদক তদন্তে নামে।

এজাহারে কমার্স ব্যাংকের বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঈন উদ্দিন আহমেদ নিজের কম্পিউটার আইডি (০২৩০০২) ব্যবহার করে অনুমোদন ছাড়াই গ্রাহকের টাকা স্থানান্তর করেন, যার ভাউচারের অথরাইজড স্বাক্ষরের স্থলে মঈন উদ্দিনের স্বাক্ষর আছে। বিধি বর্হিভূত এই অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার জন্য মঈন উদ্দিন এককভাবে দায়ী বলে ব্যাংকের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম নগদ টাকা জমা এবং উত্তোলনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি না করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া নগদ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে গ্রহণ করা হলেও রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি না দিয়ে পেঅর্ডার ইস্যুতে সহায়তা করেন। দুই কর্মকর্তা ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্নের জন্য দায়ী বলেও ব্যাংকের বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। এই তদন্তের ভিত্তিতে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। গ্রাহকদের এসব টাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।

x