গ্রাম আদালতে যেসব মামলা নয়

বৃহস্পতিবার , ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
84

চট্টগ্রামের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান বলেছেন, গ্রাম আদালতের বিচারিক কাজ আইন ও বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করলে এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। গ্রাম আদালতে মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা নির্ধারণের মামলা কিংবা ৭৫ হাজার টাকার অধিক মূল্যমানের মামলা গ্রাম আদালতে নেয়া যাবে না। সম্পদের মূল্য ৭৫ হাজার টাকার বেশি হলে ও উভয় পক্ষ গ্রাম আদালতে নিস্পত্তি করতে আগ্রহী হলেও গ্রাম আদালত মামলা নিতে পারবে না। নগরীর স্টেশন রোডে একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীদের ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের গতকাল তৃতীয় দিনে গেস্ট স্পিকারের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালতে নিস্পত্তিকৃত মামলার সাক্ষীর জবানবন্দী লিখিতভাবে থাকার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে না। উচ্চ আদালত থেকে কোন মামলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণ করা হলে তা গ্রহণ করে পক্ষগণকে নোটিশ প্রদান করতে হবে। পক্ষদ্বয় নোটিশে সাড়া না দিলে উক্ত ফাইল পুনরায় উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হবে। উচ্চ আদালত থেকে কোন মামলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণ করলে উক্ত মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তা সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদে চলমান মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত না করা পর্যন্ত অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। গ্রাম আদালতের মামলা পরিচালনা ও যথাযথ ডকুমেন্টস সংরক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও গ্রাম আদালত সহকারীদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। গ্রাম আদালতের প্রতি উচ্চ আদালতের জারি করা যে কোন নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বিরোধ বা বিবাদ নিস্পত্তিতে জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসন এ কর্মশালার আয়োজন করেছে। প্রশিক্ষণ কোর্সে অন্যান্যের মধ্যে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে সেশন পরিচালনা করেন চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত মো. জসীম উদ্দিন খান, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরী ও ব্লাস্টের জেলা সমন্বয়কারী সাজেদুল আনোয়ার ভূইয়া। প্রশিক্ষণে ফটিকছড়ি উপজেলার ১২ জন ইউয়িনন পরিষদ সচিব, ১২ জন গ্রাম আদালত সহকারী ও লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ মোট ২৫জন অংশগ্রহণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x