গ্রামে জনপ্রিয় এজেন্ট ব্যাংকিং

শুক্রবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
241

 

ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দিন শেষ! এখন পাড়ামহল্লার দোকানেই পরিশোধ করা যায় বিদ্যুৎ বিল। তোলা যায় বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্সের টাকাও। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই দুটি উল্লেখযোগ্য সেবার বাইরেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রচলিত ব্যাংকের সব সেবা।

তাই দিনে দিনে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলেই বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭ গুণ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ করে জনগণকে স্বল্প ব্যয়ে, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিতে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। খবর বাংলানিউজের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সারা দেশে যেসব এলাকায় ব্যাংকের কোনো শাখা নেই, সেসব এলাকায় ব্যাংকিং সুবিধা দিতে চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং অতি দ্রুত প্রসার লাভ করেছে। গ্রামের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। নেওয়া হয় না সেবার জন্য কোনো বাড়তি চার্জও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৫৭ হাজার গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এর মধ্যে গ্রামের মানুষই ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৪ জন। বাকিরা শহরের। শহরের তুলনায় গ্রামে হিসাব বেশি খোলা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ গুণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা চার হাজার ৪৯৩টি; যাদের আউটলেট রয়েছে ছয় হাজার ৯৩৩টি। এজেন্ট ব্যাংকিং একাউন্টে মোট জমা হওয়া অর্থের মধ্যে ডাচবাংলা ব্যাংক লিমিটেডের স্থিতি সবচেয়ে বেশি। তবে আউটলেটের সংখ্যা বেশি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের।

এদিকে ২০১৮ সালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণও শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এদের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, আল আরাফাহ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, মধুমতি, দ্য সিটি ও ডাচবাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ১৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবুল বশর বলেন, যেসব এলাকায় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে মানুষ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে। গ্রাহক সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাচ্ছে। এতে গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। তাই গ্রামীণ জনগণ এ সেবাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে।

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে। ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা অন্যতম। এ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আরো অনেক কিছু করা সম্ভব। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।

এদিকে এ সেবা চালু করে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়া প্রথমে সেবাটি চালু করে। কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

নীতিমালা অনুযায়ী, যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এমন পৌর ও শহর অঞ্চলেও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া যায়। তবে মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এজেন্ট শাখা স্থাপন না করার যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা আগের মতোই বহাল রয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জমা অথবা ওঠানো যায়। তবে অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনের এ সীমা প্রযোজ্য হবে না। দিনে দুবার জমা ও উত্তোলন করা যায়। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নতুন একাউন্ট খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, স্থানান্তর (দেশের ভেতর), রেমিট্যান্স উত্তোলন, মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি ভর্তুকির টাকা গ্রহণ করা যায়।

x