গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অবহেলা নয়

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
43

গতকাল দৈনিক আজাদীতে ‘ছনহরায় সড়কের বেহাল দশা, শিক্ষার্থীসহ মানুষের দুর্ভোগ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘পটিয়ার ছনহরা প্রফেসর প্রিয়তোষ শীল সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তার অর্ধেকাংশ ভেঙে পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সড়কটি সংস্কার না করায় দিনের পর দিন এটি ভাঙতে ভাঙতে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এতে স্থানীয় একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার সিঙ্গেল ব্রিক সলিনে নির্মিত এ সড়ক। চলতি বছর সংস্কার করা না হলে এটি ভেঙে গিয়ে পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। সড়কের পাশ ঘেঁষে পুকুর থাকায় প্রতিদিনই ভাঙছে। বর্তমানে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ছনহরা ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়, ছনহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জ্যোতিষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই।’
শুধু এই সড়ক নয়, ছনহরার ইদ্রিস মিয়া সড়ক থেকে শুরু করে অন্যান্য আরো কয়েকটি সড়কের এখন বেহাল অবস্থা। এই সড়কগুলোর চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সরকার গ্রামীণ অবকাঠোমো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে। যদিও আমরা জানি, গ্রামীণ অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও বেশি চাঙ্গা করতে পল্লি অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার, গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। এজন্য নেয়া হচ্ছে একের পর এক মেগা প্রকল্প। বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে বড় অংকের অর্থ।
সরকারের লক্ষ্য দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অর্থনীতিতে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখা। দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের অবকাঠামো তথা সার্বিক উন্নয়নে তাই সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের পল্লি অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি জোর দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে পল্লি অঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন হবে। এতে কৃষি ও অকৃষি অর্থনীতি সচল হবে। এছাড়া গ্রামীণ জনগণের জন্য রাস্তা, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। এছাড়া স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পরিবহন ব্যয় কমবে। কৃষি ও অকৃষি উৎপাদন বাড়বে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে বিভিন্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের অভিমত অনুযায়ী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশাসনের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আংশগ্রহণে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হবে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ইতিহাসে দেখা যায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন আইন ও গেজেটের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাটিও বিভিন্ন রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ঊনিশ শতকের বৃটিশ-ভারতের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার অনুরূপ। তবে এর কাঠামো, কার্যাবলী ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
স্থানীয় সরকার কার্যাবলীর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তার প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করা। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো : গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক নির্মাণ, পুননির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, পুনর্নিমাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ। কেননা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে প্রতিটি এলাকার মানুষের আত্মসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
অতএব নিত্যকার দুর্ভোগ এড়াতে সড়কগুলোর সংস্কার খুবই জরুরি। দেশের সব জায়গায় যেখানে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটছে, সেখানে পটিয়ার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সড়কগুলো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা দুঃখজনক। বর্তমানে রাস্তার ইটগুলো ভেঙে দুঃসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে তৈরি হয়েছে কেবল গর্ত। এ সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করা রীতিমত কষ্টকর। গাড়ি চলা তো দূরের কথা। তাই অনতি বিলম্বে সড়কগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।

x