গ্রামীণ জনপদে শীতের পদধ্বনি

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
15

গত কয়েকদিনের নিম্নচাপ কেটে যাবার পর এখন হৈমন্তি প্রভাবে চট্টগ্রামের গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন উপজেলায় কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের আমেজ লক্ষ্যণীয়। মীরসরাই উপজেলায়ও এখন সকাল সন্ধ্যায় হৈমন্তি সমীরণ আর সবুজ ঘাসের ডগায় শিশির ফোটা চিকচিক করে। সন্ধ্যা শুরু হলেই গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন এলাকায় হালকা কুয়াশা পড়ে এবং ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। ভোররাতে কুয়াশাসহ শিশির ফোটা বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে। ভোর রাতে ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়ায় অনেকেই মোটা কাঁথা বা মোটা কাপড় গায়ে জড়িয়ে নিচ্ছে। এদিকে ঠাণ্ডার আগমনী বার্তা আসায় তীব্র শীতের হাত হতে রেহাই পেতে আগাম লেপ তৈরির জন্য লেপ তোষকের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। এ যেন শীতের আগমনী বার্তা। যদিও বাংলা পঞ্জিকার হিসেবে কার্তিকের পর অগ্রহায়ণ পেরিয়ে তবেই আসবে শীতকাল। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে এবার হেমন্তের শুরুতেই শীতের আগাম আমেজ অনুভূত হচ্ছে। অনেকের মতে হেমন্তে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, বৃষ্টি-এক কথায় শীতের আগমনী বার্তা। কিন্তু আবহাওয়ার ভারীভাব কেটে যাবার পর যেন প্রাকৃতিক চিরায়ত নিয়মে কিছুটা শীত শীত অনুভূত হতে শুরু হয়েছে এখন। নিম্নচাপের সময় অনেকেই বলেছে শীতের আগমন কিনা সেটা বুঝতে নিম্নচাপ কেটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এরপরও শীতের প্রভাবে প্রতীয়মান “হেমন্তে ঐ ধানের ক্ষেতে কাঞ্চা সোনা জ্বলে”। থোকায় থোকায় আমন ফসলের সোনালী ঋতু হেমন্ত চলমান। কার্তিক মাস ও তৃতীয় সপ্তাহে এখন । তাই আগাম শীতের কামড় শুরু হয়ে যাওয়াকে ও সবাই স্বাভাবিকই মনে করছে। সচরাচর অগ্রহায়ণের দিকেই শীতের আমেজ টের পাওয়া যায়। পঞ্জিকার হিসাবে পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। যা এখনও ঢের দূরে। গত কয়েকদিন যাবত মীরসরাইয়ের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ও সন্ধ্যায়, রাতে উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়া পরশ বুলাচ্ছে শহর-গঞ্জ গ্রাম-জনপদে। সঙ্গে যোগ হয়েছে সকালের হালকা কুয়াশা। ভোরে শিশিরের মুক্তাদানার অপরূপ দৃশ্য তৈরি করেছে মাঠ-ঘাট, বন-বাদাড়, সবুজ প্রকৃতি চরাচরে। যেন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে শীত বুড়ি।
সম্প্রতি দিনও রাতের তাপমাত্রাও হ্রাস পেয়েছে বেশ। মীরসরাই উপজেলার পাহাড়ি জনপদে রাতের তাপমাত্রা স্থানভেদে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সে. কমেছে। তাপমাত্রা হ্রাসের সাথে সাথে উত্তরের হিমেল কনকনে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ভোর থেকে সকাল অবধি কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে সড়ক মহাসড়ক, খাল-বিল, মাঠ-প্রান্তর, পুকুর-দীঘি চরাচর। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনপদের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় সকালে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ছে। ভোরে শীতের আমেজ এসে গেছে পাহাড়ে পাহাড়ে। জুম ধানের পিঠা-পুলি তৈরি হচ্ছে ঘরে ঘরে।
সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যেতে পারে। মীরসরাইতে সম্প্রতি তাপমাত্রার পারদ ২৫ থেকে ২২ ডিগ্রি সে., প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১৮ ডিগ্রি সে. এ নেমে গেছে। তাই মনে হচ্ছে চট্টগ্রাম জুড়েও এই তাপমাত্রা শীঘ্রই আরো নিচে নেমে আসবে। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে শীতের আগমনী বার্তা বেশ সজোরেই প্রতীয়মান।

x