গ্রামীণ গ্রন্থাগার: শিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক

রবিবার , ২ জুন, ২০১৯ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
17

বর্তমান সময়ের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে শুধু পাস করার জন্য। তারা জানে না লাইব্রেরি না থাকায় স্কুল কলেজের বাইরে কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। আমরা মনে করি, লাইব্রেরির মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন দেশের কথা, মনীষীর জীবনী, তথ্য প্রযুক্তি ও জীবনের সফলতার কথা জানতে পারে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞান অর্জনের জন্য লাইব্রেরি বিরাট ভূমিকা পালন করে। বই হলো নিত্যদিনের সঙ্গী। বই বিনোদনের মাধ্যম।
বই জ্ঞানের উৎকর্ষতা নির্মাণের হাতিয়ার। বই উন্নত, সমুজ্জ্বল মূল্যবোধ ও মানস গঠনের সোপান। বই একটি জাতি ও একটি জনপদের ঊর্ধ্বমুখী উত্তরণের পরিচায়ক। বই পড়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই নেই। যারা বই পড়েন, তারা পৃথিবীকে জানতে বুঝতে পারেন। আনন্দে থাকেন। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের সত্যিকারের মানুষ হবার সুযোগ দিতে লাইব্রেরি অবশ্য-অবশ্যই প্রয়োজন। অন্যদিকে শিক্ষা বিস্তারে ও জ্ঞান চর্চার প্রয়োজনে জাতীয় রীতি হিসেবে গ্রামে গ্রামে সরকারি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। দেশের গ্রামগুলোতে শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত। স্কুলগুলোতে পড়াশোনার মান খুবই নিচু।
দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বইয়ের জ্ঞান বিজ্ঞানের নিত্য নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় রাখতে পারে না। গ্রামীণ গ্রন্থাগার আমাদের দেশে শিক্ষার উন্নয়নে খুবই সহায়ক হবে। গ্রামে গ্রামে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠায় সমস্যা অনেক। গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করতে ভবন লাগবে, বই লাগবে, কর্মচারী লাগবে এত অর্থ সরকার কোত্থেকে পাবেন? এ ব্যাপারে সরকার সহ ইউনেস্কোর সাহায্য-সহায়তা ও চাওয়া যেতে পারে। জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
গ্রামে গ্রামে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার কাজকে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করা হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করি। দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যদি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তাহলেও এ কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x