গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে লাগবে আরো এক মাস

সাবমেরিন পাইপ লাইন দেখতে আজ আসছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান

হাসান আকবর

শুক্রবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
294

চট্টগ্রামের গ্যাস সংকটের স্থায়ী সুরাহা হতে আরো এক মাসেরও বেশি অপেক্ষা করতে হবে। এলএনজি সরবরাহ পুরোদমে শুরু না করা পর্যন্ত গ্যাস সংকটের সুরাহা হচ্ছে না। চট্টগ্রামের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো চব্বিশ ঘন্টা চালু করা হলেও গ্যাসের প্রেসার কমে যাওয়ায় আবারো ছয় ঘন্টার জন্য বন্ধ করা হতে পারে। কর্ণফুলীর তলদেশের এলএনজি সরবরাহের পাইপ লাইন চালু করতে সময় লাগায় গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্কে সমস্যা হচ্ছে। সাবমেরিন পাইপ লাইনটির অবস্থা দেখতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আজ চট্টগ্রাম আসছেন। অবশ্য আগামী মাসের শুরুতে সিইউএফএল, কাফকো ও শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ গ্রিড থেকে আলাদা করে দেয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। চট্টগ্রামে গতকাল ৩১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি ও ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিড থেকে যোগান দিয়ে মোট ৩৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। এ গ্যাস দিয়ে সিইউএফএল ও কাফকোর পাশাপাশি বন্ধ থাকা শিকলবাহা দু’টি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু করা হয়। সার কারখানায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়ায় অন্যান্য স্থানে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। আরো ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের যোগান থাকলে সংকট হতো না। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ সংকট মোকাবেলায় আপাতত দিন কয়েকের জন্য গ্যাস সরবরাহে আবারো রেশনিং করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় এলএনজি প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে। চব্বিশ ঘন্টা গ্যাস দেয়া হয় চট্টগ্রামের ৬৩টি সিএনজি স্টেশনে। বর্তমানে প্রেসার কমে যাওয়ায় উক্ত সিএনজি স্টেশনে আবারো বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। দুয়েক দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে গ্যাস বন্ধের এই নির্দেশ আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়ার কথা থাকলেও আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ দেয়া যাচ্ছে না। পাইপ লাইনটির কাজ দেখতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ আজ চট্টগ্রামে আসছেন।

কর্ণফুলী গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চট্টগ্রামে শুধুমাত্র আনোয়ারা সিজিএস দিয়ে তিনশ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ফৌজদারহাট সিজিএস দিয়ে কোন এলএনজি আসছে না। আনোয়ারা দিয়ে যে এলএনজি আসছে কাফকো, সিইউএফএল ও শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেড়শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করছে। ফলে চট্টগ্রামের অন্যান্য খাতে এলএনজি আসছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু কাফকো, সিইউএফএল এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে গ্রিড থেকে আলাদা করে দিয়ে যদি সরাসরি এলএনজি লাইনে যুক্ত করে দেয়া যায় তাহলে আনোয়ারা সিজিএসএর আগেই উক্ত তিন গ্রাহকের কাছে গ্যাস পৌঁছে যাবে। আনোয়ারা সিজিএস দিয়ে তিনশ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পুরোটাই চট্টগ্রামের রিং মেইন লাইনে প্রবেশ করবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সিইউএফএল, কাফকো ও শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস লাইন আলাদা করে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে এ লাইন আলাদা হয়ে যাবে। তখন আনোয়ারা সিজিএস দিয়ে আসা এলএনজি চট্টগ্রামের সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট ঘুচে যাবে। কর্ণফুলী গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার খায়ের আহমদ মজুমদার বলেছেন, চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট থাকবে না। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও আমরা তা সমাধানে ব্যবস্থা নেব।

x