গ্যাসের বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়ন জরুরি

মঙ্গলবার , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
73

চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অথচ চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও পাচ্ছিল না সেই চট্টগ্রাম। গ্যাস সংকটের কারণে শুধুমাত্র শিল্প কলকারখানা নয়, বাসাবাড়ির লোকজনের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। গ্যাস সংকট অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সমস্যাটি শুধুমাত্র গৃহিণীদের নয়, বস্তুত সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিই পড়েছে সংকটের মুখে। জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম যে কোনো বিবেচনায় গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। তাই বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশপাশি গ্যাসের চাপ বাড়ানো, উৎপাদন, সংযোগ, সুষম বণ্টন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছে দেশের ক্রেতাভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ। এরই মধ্যে গতকাল দৈনিক আজাদীতে প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘গ্যাসের জন্য দীর্ঘশ্বাস আর নয়’ শীর্ষক একটি আনন্দ বার্তা। এতে বলা হয়, ‘গ্যাসের জন্য দীর্ঘশ্বাস আর নয়। সরবরাহের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে পাচ্ছে চট্টগ্রাম। সোমবার থেকেই এ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা জানালেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এতে প্রাণ ফিরবে বন্ধ থাকা রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে, শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দুই সার কারখানায়। মহেশখালী থেকে আসা এলএনজি’র ট্রান্সমিশন লাইন থেকে সরবরাহ পাওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ দেবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এটাকে তাদের জন্য বিশেষ ‘সুসংবাদ’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর এ নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিব্যক্তিও বেশ ইতিবাচক।’ সংবাদটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও স্বস্তির।

ক্যাব নেতৃবৃন্দের মতে, দুই বছরে চট্টগ্রামে গ্যাসের চুলা বেড়েছে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। বেড়েছে গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানা। গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন বাড়লেও জোগানের কোনো সংস্থান এতোদিন হয়নি। চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৫০০৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের জোগান দেয়া হয়েছে ১৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট চলমান থাকলেও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের টনক না নড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করে এর দ্রুত অবসান দাবি করেন তাঁরা। এদিকে তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে পৃথক করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হলেও কেজিডিএল এখনও স্বতন্ত্র অবস্থান ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়নি।

আজাদীতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, এর আগে সর্বোচচ ২৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিল কেজিডিসিএল। এদিকে রোববার সকালে ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজ মহেশখালীতে ভিড়েছে। পেট্রোবাংলা থেকে জানা গেছে, এলএনজি নিয়ে দ্বিতীয় জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছার পর থেকেই ওই জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনাল অর্থাৎ ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটস এ (এফএসআরইউ) এলএনজি স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ। এ এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে আজ সকাল থেকে ট্রান্সমিশন লাইনে সরবরাহ শুরু করা হবে। সকাল ৮টা থেকে আনোয়ারার রাঙাদিয়ায় নির্মিত সিজিএস (সেন্ট্রাল জেনারেটিং স্টেশন) এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের সরবরাহ লাইনে সংযোগ দেয়া হবে। ট্রান্সমিশন লাইনে থেকে প্রতিদিন সর্বোচচ ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এখন থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামের জন্য সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

যে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল), তাতে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানায় ও বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। এ গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে এখন থেকে আবাসিকের সমস্যাও দূর হতে পারে। গ্যাসের চাপ বাড়ানো ও উৎপাদন বিষয়ে গুরুত্বারোপের পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়ন জরুরি। কেননা বিতরণ কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ব্যতিরেকে জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অনিয়ম দূর করা একেবারেই অসম্ভব।

x