গোলাপ ফুল চাষাবাদের রয়েছে অপার সম্ভাবনা

কেশব কুমার বড়ুয়া : হাটহাজারী

সোমবার , ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
301

কথায় আছে যে ফুলকে ভালবাসে না তার কাছে সৃজনশীল মনোভাব নেই। সৃজনশীলতা না থাকলে মানবিক মূল্যবোধ থাকে না। সেই স্মরণার্তীত কাল থেকে জমিদার, রাজাবাদশা, বিত্তশালীদের আঙ্গিনায় ফুল চাষাবাদের রেওয়াজ ছিল। ফুল চাষ বাড়ির আঙ্গিনাকে সুন্দর রাখে। মনের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি করে। যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠানে ফুলের কদরও রয়েছে। পুজা অর্চনার জন্য ফুল একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ। গুণীজনকে সম্মান জানাতে পুস্প স্তবক, ফুলের মালা উপহার দেওয়া মহাসম্মানের। জাতীয় দিবসে ও বিভিন্ন স্মৃতি সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর রেওয়াজ দেশে রয়েছে। তাই ফুলের চাষাবাদ করা খুবই প্রয়োজন। দেশে বিভিন্ন প্রজাতীর ফুলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। তৎমধ্যে গোলাপ ফুলের কদর বেশি থাকায় এ জাতীয় ফুলের চাষাবাদে আগ্রহী চাষীরা। অন্যান্য ফুলের চেয়ে গোলাপের দাম ও বেশী। গোলাপ ফুল আর্কষনীয় বলে কোন সম্মানি ব্যক্তিকে গোলাপ দিয়ে বরণ করলে ব্যক্তি ও অনুষ্ঠানের সম্মান বৃদ্ধি পায়।
এক সময় হাটাহাজারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের ব্যাপক চাষাবাদ হত। নানা কারণে বিশেষ করে কৃত্রিম ফুলের কারণে ফুল চাষে চাষীরা ক্রমে আগ্রহ হারাতে বসেছে। বিদেশ থেকে কৃত্রিম ফুল আমদানী তথা দেশে কৃত্রিম ফুল তৈরি হওয়ায় প্রাকৃতিক ফুলের কদর কিছুটা কমতে বসেছে। তবে কৃত্রিম ফুল থেকে প্রাকৃতিক ফুলের কদর সবচেয়ে বেশি। প্রাকৃতিক ফুলের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় অনেকে কৃত্রিম ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। কৃত্রিম ফুলের কারণে আবাদী ফুলের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক ফুল চাষী চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হারাতে বসেছে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও অনেকে ফুল চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। আবার এক সময় যারা ফুল চাষ করে পরিবার পরিজন ও সংসার চালাতো চাষাবাদে শ্রমিক সংকট ও পরিশ্রমের কারণে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এরপরও চাহিদার কারণে উপজেলার বিশেষ করে পৌরসভার আলমপুর, চন্দ্রপুর, আদর্শগ্রাম, মুরাদপুর, ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুর ,গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের উত্তর ছাদেক নগর , ফতেয়াবাদ এলাকায় কিছু কিছু স্থানে ফুলের চাষাবাদ হচ্ছে। বিত্তশালী , মসজিদ, মন্দির, মাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দপ্তরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য টপে ফুল লাগানো হয়। টপে লাগানোর জন্য ফুল গুলো বিভিন্ন নার্সারী থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন নার্সারী মালিকগণ ও নিজস্ব নার্সারী কিংবা বাগানে ফুলের চাষাবাদ করে থাকে।
পৌরসভার প্রায় ২০ জন ফুল চাষের সাথে জড়িত। তাদের সাথে আরো প্রায় শতাধিক লোক পরোক্ষভাবে এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে বলে চাষীরা জানান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফুল বাগানে শ্রমিক হিসাবে কাজ করে কেউ বা ফুল ক্রয় বিক্রিয় করে থাকে। বর্ষা মৌসুমে কিছু কিছু ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে গোলাপ উৎপাদন সারাবছর হয়। অবশ্য বর্ষা মৌসুমে গোলাপ বাগানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা দরকার। আবার শুস্ক মৌসুমে ফুল গাছে যখন পানির প্রয়োজন দেখা দেয় তখন জমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সাথে সাথে ফুল চাষের জমিতে পরিমিত সার ও কীটনাশক দেওয়া প্রয়োজন।
ফুল চাষীরা জানান, ৪০ শতক জমিতে গোলাপের চাষাবাদ করতে সাড়ে তিন হাজার চারা ও কলম রোপণ করতে হয়। সেখান থেকে তিন হাজারের মত চারায় ফুল আসে। রোপণের মাস দেড়ক পর কুঁড়ি দেখা দেয়। ২ মাসের মধ্যে এ কুঁড়ি ফুলে রূপান্তরিত হয়। পূর্ণিমা তিথিতে গোলাপ পরিপক্ক হয়ে থাকে। প্রতিটি গোলাপ গাছ থেকে বছরে প্রায় ৫০/৬০টি ফুল উত্তোলন করা হয়। ৪০ শতক জমিতে গোলাপের চাষ করতে প্রায় লক্ষ টাকার মত ব্যয় হয়। খরচ পুষিয়ে ঠিক মত ফুল উৎপাদন হলে বছরে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ হয় বলে চাষীরা জানান। বর্তমানে বাজারে কৃত্রিম ফুল সহজ লভ্য হওয়ায় তাদের ফুল চাষের আগ্রহে ভাটা পড়েছে বলে উল্লেখ্য করেন। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে গোলাপের চাষ করতে হয়। অন্যথায় বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে ফুলের গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গোলাপ চাষীরা পুনরায় চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এতে করে চাষীরা যেমন লাভবান হবে তেমনি ভাবে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত ফুলের সৌন্দর্যে এলাকা সৌন্দর্য মন্ডিত হবে। মানুষের হৃদয় মন উৎফুল্ল হবে। গোলাপ বাগান ঘুরতে ফুল প্রেমিকেরা আগ্রহী হয়ে উঠবে।

x