গোপনে ব্রেক্সিটের সমাধানের খোঁজে বরিস জনসন

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ
18

ইইউর সঙ্গে বোঝাপড়ার লক্ষ্যে গোপনে এক সমাধানসূত্র প্রস্তুত করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জার্মানির এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটি উঠে এসেছে। এদিকে ইইউ পার্লামেন্ট ব্যাকস্টপ ছাড়া ব্রেক্সিট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ব্রেক্সিটকে ঘিরে অচলাবস্থা কাটার কোনো আশার আলো দেখছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এক ভাষণে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, বোঝাপড়ার জন্য হাতে বেশি সময় নেই। তাই চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি অত্যন্ত বাস্তব। তবে ব্রাসেলস এমন পরিস্থিতি এড়াতে যাবতীয় চেষ্টা করবে। তবে সাফল্যের আশা কম বলে তিনি মনে করেন। জনসনের সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গে ইয়ুংকার বলেন, আইরিশ সীমান্তে ব্যাকস্টপ ব্যবস্থার সঙ্গে তার কোনো আবেগের সম্পর্ক নেই। কিন্তু সেই ব্যবস্থার আসল লক্ষ্য পূরণের প্রশ্নে তিনি গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন। তিনি আবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্পষ্ট, কার্যকর ও লিখিত বিকল্প প্রস্তাব পেশ করার ডাক দেন।
ব্যাকস্টপ বা তার গ্রহণযোগ্য বিকল্প ছাড়া কোনো ব্রেক্সিট চুক্তি যাতে সম্ভব না হয়, সেই লক্ষ্যে বুধবার ইইউ পার্লামেন্ট এক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ইইউর প্রধান ব্রেক্সিট মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইইউ পার্লামেন্টে ব্রিটেনের ব্রেক্সিটপন্থি সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বলতে চান না বটে, কিন্তু এর পরিণতি আরও অনেক বেশি গুরুতর ও সংখ্যায় আরও হতে চলেছে। সেইসঙ্গে আলোচনার ভান না করে দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবার ডাক দেন বার্নিয়ে। জনসন বারবার বিকল্পের ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা বললেও এখনো পর্যন্ত ব্রাসেলসে কোনো প্রস্তাব পেশ করেননি। তবে জার্মানির ‘স্যুডডয়চে সাইটুং’ সংবাদপত্রের সূত্র অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার গোপনে এক সমাধানসূত্র প্রস্তুত করেছে। এর আওতায় ব্রেক্সিটের পরেও শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশে ইইউর অনেক নিয়ম কার্যকর থাকবে। গোটা আয়ারল্যান্ড দ্বীপের জন্য এক অর্থনৈতিক এলাকার ব্যবস্থা করে আইরিশ সীমান্তে অচলাবস্থা এড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে কৌশলগত কারণে জনসনের পক্ষে সেই প্রস্তাব প্রকাশ্যে পেশ করা সম্ভব নয়, কারণ সেক্ষেত্রে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা প্রবল বিরোধিতা শুরু করতে পারে। ১০ দিন পর টোরি দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে এই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী। সরকারের জোটসঙ্গী উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি দলও প্রবল আপত্তি জানাতে পারে।

x