গৃহশিক্ষকের যাবজ্জীবন চাচাতো ভাইয়ের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ২১ জুন, ২০১৯ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
371

অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় ১২ বছর আগে দায়ের করা মামলার রায়ে দুই যুবককে সাজা ও জরিমানা করেছেন আদালতের বিচারক। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন। রায়ে মামলার দুই আসামির মধ্যে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যজনকে ১৪ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আসামিরা জামিন নিয়ে পলাতক হয়েছেন অনেক আগে।
সাজা ও জরিমানাপ্রাপ্ত দুই আসামি হচ্ছেন, জয়নাল আবেদীন ও দাউদ।
মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৪ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর পাথরঘাটার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বাসায় ফিরছিল। এসময় তার চাচাতো ভাই দাউদ ও তার বন্ধু ছাত্রীটির গৃহশিক্ষক জয়নাল আবেদিন তাকে অপহরণ করে। মেয়েকে না পেয়ে ৭ জুন কোতোয়ালী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন তার বাবা।
ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর ফেনী, নোয়াখালী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে এক মাসেরও বেশি সময় আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ করা হয় জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। সে বছরই ১০ জুলাই তাকে দিনাজপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় জয়নাল ও দাউদকে। পরে অবশ্য তারা জামিন নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। গতকাল রায় ঘোষণার সময়ও তারা হাজির ছিলেন না। দিনাজপুর থেকে উদ্ধারের পর ওই ছাত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দী দেয়। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। একই বছরের ১৫ নভেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় মোট ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে জয়নালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দাউদকে ১৪ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এবিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি জেসমিন আক্তার জানান, মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারনে আসামিদেরকে সাজা ও জরিমানা করেন আদালতের বিচারক।

x