গুমাই বিলে বোরো চাষাবাদের প্রস্তুতি

আকাশ আহমেদ

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ
24

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলে চলছে বোরো চাষাবাদের জোর প্রস্তুতি। আমন ধান গোলায় তোলার দুই সপ্তাহর ব্যবধানে কৃষকরা আবারো ব্যস্ত হয়ে উঠছে ধান চাষে। বোরো চাষাবাদের জন্য গুমাই বিলকে প্রস্তুত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। নদী থেকে পানি সেচ দিয়ে সারি সারি তৈরি করা হচ্ছে সোনালী বীজতলা। বাড়ছে শ্রমিকদের কদর। চড়া মূল্য দিয়ে শ্রমিক সংগ্রহ করে অল্প সময়ে চারা গজাতে কৃষকদের তাড়াহুড়ো চোখে পড়ার মতো। পুরো গুমাই বিলে কৃষকরা বোরো চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরি ও বোরো চাষের জন্য জমিকে উপযোগী করার কাজ করছে বিরামহীন।
গত দুই সপ্তাহ আগেও পুরো গুমাই বিল জুুড়ে ছিল সোনালী ধানের নাচন। মাঝে ১০-১২ দিন ছিল ন্যাড়া ভূমি। এখন সেখানে পানি সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরির ধুম চলছে। অধিকাংশ ভূমিতে বীজ ফেলা হয়েছে ইতোমধ্যে। অনেকে আবার নিজের প্রয়োজন ছাড়াও চারা বিক্রি করার জন্য অতিরিক্ত বীজতলা তৈরি করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমন চাষাবাদে বাম্পার ফলনে কৃষকদের ফুরফুরে মেজাজে চলছে বোরো চাষাবাদের জোর প্রস্তুতি। এবারে পুরো চাষাবাদ সেচের উপর নির্ভর করতে হবে। বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় সেচের পানিতে চাষাবাদ করতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হবে।
জানা যায়, কর্ণফুলী নদী বিস্তৃত উর্বর ভূমি গুমাই বিলের পলিবাহিত জমি উর্বরতার কারণে প্রতি বছর দুই ফসলী এই ভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয়। দেশের বৃহত্তম চলন বিলের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চট্টগ্রামের এ শস্য ভাণ্ডারে গত মৌসুমে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার মেট্টিক টন। যা গুমাই বিলের ৪ হাজার হেক্টর থেকে উৎপাদিত ধানের বাম্পার ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে খাদ্য উৎপাদন করে প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এ বিল।
১৯৪৫ সালে রাঙ্গুনিয়ার কৃতিপুরুষ মরহুম আবদুল বারী তালুকদার অক্লান্ত পরিশ্রম করে গুমাই বিল সংস্কার করে প্রথমবারের মতো আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেন। গুমাই ঝিল থেকে বিলে পরিণত করার প্রবল কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। ১৯৮০-৮১ সাল থেকে গুমাই বিলের জমি শুষ্ক মৌসুমে সেচের আওতায় আনা হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো চাষাবাদে উপজেলায় ৭ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে গুমাই বিল থেকে সিংহভাগ ধান উৎপাদিত হবে বলে কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কাজী রমিজ আহমেদ জানান।
উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের সুফিপাড়ার গুমাই বিলের কৃষক আবদুল মবিন, নুরুল কবির, কদমতলীর মো. আলী, সোনা মিয়া জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে গুমাই বিল থেকে আমন ধান কেটে গোলায় তুলেছি। গোলায় তোলার পর পর বোরো চাষাবাদ করার লক্ষে বীজতলা তৈরি ও জমি উপযোগী করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। গত মৌসুমে গুমাই বিলে বাম্পার ফলন হওয়ায় আমরা এ মৌসুমেও ব্যাপকভাবে বোরো চাষাবাদের প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছি। এ মৌসুমে সেচের মাধ্যমে আমাদের চাষাবাদ করতে হবে। সেই জন্য জমি উপযোগী করে তুলতে চড়া মূল্যে শ্রমিক নিয়েছি। আশারাখি গত মৌসুমের মতো এ মৌসুমেও আশানুরূপ ফলন পাব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, গতবারের আমন চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের উপযোগী দাম পাওয়ায় কৃষকরা ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে। বোরো চাষাবাদ করার লক্ষ্যেও তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বোরো চাষাবাদে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, বোরো চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করা হবে। কৃষকরাও উৎসাহ নিয়ে গত মৌসুমের মতো বাম্পার ফলনে অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

x