গুণগত পাঠদান নিশ্চিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তুলুন

শনিবার , ২৮ এপ্রিল, ২০১৮ at ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
127

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছরই নিয়োগ পাচ্ছেন নতুন অনেক শিক্ষক। গত কয়েক বছরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বাড়লেও তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য গড়ে তোলা হয়নি কোন ইনস্টিটিউট। সক্ষমতা না বাড়ায় পুরনো ইনস্টিটিউটগুলোর পক্ষেও এদের সবাইকে প্রশিক্ষিত করে তোলা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অপ্রশিক্ষিতই থেকে যাচ্ছেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষক। বছরের পর বছর ধরে এ অবস্থাতেই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ৩৬ শতাংশই অপ্রশিক্ষিত। সে হিসেবে এ ধাপগুলোয় এখনো অপ্রশিক্ষিত রয়ে গেছেন ২ লাখেরও বেশি শিক্ষক। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় ৩০ ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অপ্রশিক্ষিত থেকে যাওয়ার পেছনে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক না থাকাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রতিবন্ধক হিসেবে।

একজন শিক্ষার্থীর গুণগত শিক্ষা পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর। তাই মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এ গুরুত্বের কারণে সব দেশেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়। চাহিদা অনুসারে গড়ে তোলা হয় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো। কিন্তু আমরা দেখছি, আমাদের দেশে চিত্রটা খানিকটা আলাদা। দেশে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি বছরই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে; অথচ তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা হয়নি বা হচ্ছে না নতুন কোন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। সক্ষমতা না বাড়ায় পুরনো ইনস্টিটিউটগুলোর পক্ষেও সবাইকে প্রশিক্ষিত করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অপ্রশিক্ষিত থেকে যাচ্ছেন। ‘ব্যানবেইস’ এর তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, দেশে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ৩৬ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় ৩০ ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান প্রকৃতই শিক্ষার জন্য ভয়াবহ। দেশে বছরের পর বছর ধরে প্রশিক্ষণ বিহীন অবস্থায় এতগুলো শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যান, তাহলে যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন পাঠদান কি সম্ভব? এটা কি যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন পাঠদানের প্রতিবন্ধক নয়? সরকারকে এ বিষয়ে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞরা স্বাভাবিক ভাবেই এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অপ্রশিক্ষিত থেকে যাওয়ার পেছনে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট না থাকাকে দায়ী করেছেন। বিষয়টিকে খাট করে দেখার সুযোগ নেই। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই শিক্ষক প্রশিক্ষণের এই দৈন্যদশার উত্তরণ ঘটাতে হবে। দূর করতে হবে প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। এ জন্য এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য।

এটা সকলেরই জানা যে, শিক্ষাই হলো, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার প্রতিটি ধাপেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ অত্যাবশ্যক। কাজেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগের পরও শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারণ শিক্ষা প্রতি মুহূর্তেই হালনাগাদ হয়। সাধারণত দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ নিয়োগের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এমন কি নিয়োগের পরও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয় না। আবার প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় অনেক শিক্ষকই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে থাকেন। এটা কোনমতে অভিপ্রেত নয়। মূলত এ কারণেই শিক্ষার মানে আজকের এ অধোগতি। আশার কথা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আনতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে। সর্বশেষ জাতীয় বাজেটেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্যোগগুলো আমলাতান্ত্রিক বা নিছক কাগুজে যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর এই লক্ষ্য রাখার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক হতে হবে। বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সুফল দৃশ্যমান করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশাসরকার তা করবে।

x