গুজব এবং গণপিটুনিতে হত্যা ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা

বৃহস্পতিবার , ১ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
15

পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে ‘শিশুদের মাথা লাগবে’ গুজবের পর থেকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই বিচার বিশ্লেষণ না করেই ছেলে ধরা অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এ পর্যন্ত ৩৬ জন মানুষ নিহত হয়েছে। এদের অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন কিংবা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী। যারা অন্যদের কাছে নিজের বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারেন না। তবে রাজধানীর বাড্ডা ও নারায়নগঞ্জের মর্মান্তিক দুটো ঘটনা সত্যিই বেদনাদায়ক। বাড্ডায় তাসলিমা বেগম শিশু সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করার বিষয়ে খোঁজখবর করতে গিয়েছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁকে নিজের কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিলেন। কিন্তু তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি ছেলেধরা। এরপর এলাকার একশ্রেণির অতিউৎসাহী লোকজন স্কুল ঘরে ঢুকে তাঁকে গণপিটুনি দেয়। কিন্তু কেউ একবারও বিবেচনা করল না তিনি আদৌ ছেলেধরা কিনা? শুধু কি তাই! খুনের সময়ও খুনের পর অসংখ্য ক্যামেরা ছিল। অথচ সবাই গণপিটুনিতে নির্জীব মানুষটির ছবি তুলছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি।
একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটলেও সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। যদি নিতে পারতো তাহলে ঘটনাগুলো এভাবে ঘটত পারতো না। নিকট অতীতের গণপিটুনির পরিসংখ্যানই বলে দেয় আইন হাতে তোলার প্রবণতা এখন বেড়েই চলেছে। মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার সংস্কৃতি এই প্রথম নয়। অতীতেও দেখা গেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ছয় মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে যে সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা তাতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, অশান্তি বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে ঠিক সেই সময়টাকে সমাজে অস্থিরতা, অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অভাব সত্যিই বেদনাদায়ক। এই সমাজ ও রাষ্ট্রে কেন হঠাৎ করে এই প্রবণতা দেখা দিল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এম. এ.গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x