গুচ্ছ সংলাপ

সত্যব্রত বড়ুয়া

শুক্রবার , ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
42

ভদ্রলোকের সাথে আমার পরিচয় অনেক দিনের। তিনি আমার বাসায় বহুবার বেড়াতে আসলেও আমি একবারও তাঁর বাসায় বেড়াতে যেতে পারিনি। ভদ্রলোকের সাথে দেখা হলেই বলেন, আপনাকে আর আমি আমার বাসায় আসতে বলবোনা। কিন্তু সত্যিই কী তিনি চান তাঁর বাসায় আমি বেড়াতে যাই? আমি মনে করি তা তিনি চাননা। তাই যদি হতো তবে তাঁর বাসায় একটা হিংস্র এলসেসিয়ান কুকুর পুষতেন না। আমি ভদ্র লোকের বাসায় যাওয়ার জন্যে অনেকবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাঁর বাসার গেইট পর্যন্ত গিয়ে ফেরত এসেছি। এর কারণ ওই বাঘা কুকুরটি। শিকলে বাঁধা কুকুরটি আমাকে দেখা মাত্রই এমনভাবে হুংকার দিয়ে লাফ দেয় যে মনে হয় নাগালের মধ্যে পেলে আমাকে ছিঁড়ে খাবে। কুকুর নাকি একটা মানুষকে বারবার দেখলে তার চেনা হয়ে যায়, তখন সে আর ঘেউ ঘেউ করে উঠেনা। আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই কুকুরটির জন্যে কেউ ভদ্রলোকটির বাসায় বেড়াতে যেতে পারেন না। আমি নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি যে ভদ্রলোক বাইরের মানুষকে উপদ্রব বলে মনে করেন। তিনি নিরাপদে থাকবার জন্যেই কুকুরটি পুষেছেন। ভয়ংকর এই কুকুরটি পুষেছেন অতিথিদের তাড়াবার জন্যেই। সেদিন শুনলাম কুকুরটি মারা গেছে। এটা ভদ্রলোকের জন্যে দুঃসংবাদ হলেও আমার জন্যে ছিলো সুসংবাদ। আমি টেলিফোনে তাঁকে সহানুভূতি দেখিয়ে বললাম যে কুকুরটির জন্যে আমার মন খারাপ। আমাকে দেখলেই কুকুরটি খুশিতে লেজ নাড়তো।

কলের গান হারিয়ে গেছে অনেককাল আগে, কিন্তু এ নিয়ে আমার স্মৃতিকাতরতা রয়েছে। কলের গানে একটা কুকুরের ছাপমারা ছবি দেখতাম। দেখে মনে হতো কুকুরটি গভীর মনোযোগের সাথে গান শুনছে। আমার বাসার পোষা কুকুরটি শুধু যে গান শুনে তা নয়, টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটকও দেখে। আমরা যখন ‘দাদাগিরি’ অনুষ্ঠানে সৌরভ গাঙ্গুলির অসামান্য উপস্থাপনা দেখে আনন্দে হাততালি দেই তখন কুকুরটি পাতালি দেয়। আমার নাতনির গানের টিচার যখন উঁচু গলায় উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখান তখন কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে উঠে। বুঝতে পারি সে উচ্চাঙ্গ সংগীত পছন্দ করে না। অদ্ভূত ব্যাপার হলো ডিসি হিলে যখন ব্যান্ড সংগীতের আসর বসে তখন কুকুরটি কান খাড়া করে চুপচাপ গান শুনে। হাবভাব দেখে মনে হয় এই বুঝি সে ড্রামের আওয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে নেচে উঠবে।
একটি সুবচন রয়েছে, ‘চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি’। আমার ধারণা আমরা সবাই ধর্মের কাহিনি শুনতে চাই। সুবচনটি তাই হওয়া প্রয়োজন, চোরে না মানে ধর্মের কাহিনি। চোর, সাধু সবাই তো আমরা ধর্মের কাহিনি শুনি, কিন্তু মানি কী?
আমি মনে করি অশান্ত মনকে শান্ত করার সহজ উপায় হলো, বসে বসে কুকুরের লেজ সোজা করা। এটাকে মেডিটেশনের একটা পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
আমার বিশ্বাস অচিরেই বাজারে রোবট নারী পাওয়া যাবে। এদের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা ও থাকবে। বাঘ ও সিংহীর সংগমে যে সন্তান গ্রহণ করে তাকে বলা হয়, ‘টাইগন’। মানুষ আর রোবট নারীর সংগমে যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে তার নামকরণ করা যেতে পারে ‘মেরো’। মানুষ মরণশীল হলেও ‘মেরো’ হবে অমরশীল। ভবিষ্যৎ এর পৃথিবীটা থাকবে রোবটদের দখলে।

x