গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ : কালের মহানায়ক

বুধবার , ৬ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
11

বিশ শতকের শেষার্ধে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। সাংবাদিক ও প্রকাশক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। উপন্যাসের পাশাপাশি প্রচুর ছোটগল্প লিখেছেন তিনি। তাঁর লেখার প্রধান ধরন ছিল জাদুবাস্তবতা। যদিও তিনি নিজেকে কোনো প্রথাবদ্ধতায় আটকে রাখেন নি এবং তাঁর রচনাও কখনো একই ধাঁচে আবদ্ধ থাকে নি। তবুও তাঁকে জাদুবাস্তবতার কথাকার বলা হয়। আজ মার্কেজের ৯২তম জন্মবার্ষিকী।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের জন্ম ১৯২৭ সালের ৬ মার্চ কলাম্বিয়ার আরাকাটকা গ্রামে। তবে বেশিরভাগ সময় তাঁর কেটেছে মেঙিকো এবং ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। কলাম্বিয়া আর মেঙিকো দু দেশেরই জাতীয়তা ছিল তাঁর। কলাম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়েছেন। এ সময় সাংবাদিকতা দিয়ে তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু। পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথেও তিনি যুক্ত হন। বিশ্ব সাহিত্য ও বিশ্ব সাহিত্যিকদের রচনা তাঁকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে কাফকা, হেমিংওয়ে, ভার্জিনিয়া উলফ এবং উইলিয়াম ফকনারের মতো সাহিত্যিকরা। লাতিন আমেরিকার সমসাময়িক লেখকদের দ্বারাও তিনি প্রভাবিত হন। মার্কেজ লিখতে শুরু করেন চল্লিশের দশক থেকে। তবে তাঁর উল্লেখযোগ্য লেখাগুলো রচিত হয় ষাটের দশকে। তাঁর প্রতিটি উপন্যাসই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড’, ‘দ্য অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক’, ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’, ‘স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস’, ‘অফ লাভ অ্যান্ড আদার ডেমনস’, ‘নিউজ অফ কিডন্যাপিং’ ইত্যাদি। ‘ওয়ান হানড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড’ বা ‘নিঃসঙ্গতার এক শতাব্দী’ পৃথিবীব্যাপী আলোড়ন তোলা একটি উপন্যাস এবং এটি মার্কেজকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। এই বইটি তাঁর জন্য নিয়ে আসে নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি। ১৯৮২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। মার্কেজ ছিলেন উদারপ্রাণ, মানবতাবাদী লেখক। মানুষের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা আর দুঃখবোধ। তাঁর প্রায় সকল রচনাতেই এই জীবনানুভূতির সন্ধান মেলে – দুঃখ-প্রেম আর বিরহ-মিলন। জাদুবাস্তবতার যে ব্যাপারটি তাঁর শিল্পরীতির বৈশিষ্ট্য সে সম্পর্কে মার্কেজের অভিব্যাক্তি, কিছু অসাধারণ ঘটনা, দুর্ঘটনা, বাস্তবতা ছাড়িয়ে যাওয়া বিশ্বাস মানুষকে যন্ত্রে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সাথে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল। জনমানুষেরও খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দু বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করেছেন। এসময় লেখালেখি কমে আসে, সীমিত হয়ে পড়ে ভ্রমণ। আত্মজীবনী ‘লিভিং টু টেল আ টেইল’ প্রকাশের পর পরিকল্পিত ২য় ও ৩য় খণ্ড রচনা করা হয়ে ওঠে না। ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল প্রয়াত হন জাদুবাস্তবতার কথাকার, লাতিন আমেরিকার মানুষের বন্ধু মার্কেজ, শ্রদ্ধাভরে যাকে তাঁরা ‘গাবো’ নামে ডাকতো। ‘গাবো’ মার্কেজের ডাক নাম।

- Advertistment -