গানের অনুষ্ঠানে প্রাণ নেই

সাতদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ৩১ মে, ২০১৮ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
7

পুরোনো দিনের জনপ্রিয় গান নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান স্মৃতিময় গান। এ অনুষ্ঠানে শিল্পীরা হৃদয়ছোঁয়া সব গান করেন, যা শুনে সত্যি অভিভূত হওয়ার কথা। ফিরে যাওয়া যেত সেসব স্মৃতিময় দিনে। কখনো কখনো হয়তো হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তবে বেশিরভাগ সময় আশাহত হতে হয়। গান শুনে মর্মাহত হতে হয়। যেমন হতে হল গত সোমবার। এবারের পর্বে গান করেন মন্দিরা চৌধুরী, মনোজ কুমার সরকার ও শিরিন আকতার। তিন শিল্পীর কেউই কোনো গানেই হুদয়ে জাগরণ তুলতে পারেননি। মনোজ কুমার সরকার গেয়েছেন সেই প্রীতিময় গান ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ কিংবা ‘দিন যায় কথা থাকে’, কিন্তু গানে কোনো প্রাণ ছিল না। গলা থেকে সুরস্বর বেরুতে এত কষ্ট হচ্ছিল যে, মনে হচ্ছিল ইচ্ছার বিরুদ্ধেই হয়তো গাইতে এসেছেন। একই কথা বলা যায়, শিরিন আকতারের বেলায়ও। তিনি গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিনের মিষ্টি গান, ‘ইশারায় শিস দিয়ে, আমাকে ডেকো না’ এবং ‘আমার দুটি চোখ যখন আকাশ’। গানের কথা শুনে যে কোনো শ্রোতাই ফিরে যাবেন সে মধুময় সময়ে, কিন্তু শিরিন আকতার আমাদের সে সময়ে নিতে পারেননি। পুরো অনুষ্ঠানে কিছুটা ভালো ছিল মন্দিরা চৌধুরীর কণ্ঠে ‘না হয় কিছু পাব না’ গানটি। নাটকের মানুষ মনোজ সেন গুপ্ত গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় পারদর্শিতা দেখাতে পারছেন না। প্রতি পর্বে নির্দিষ্ট দু’তিনটি প্রশ্ন ছাড়া গান সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নই তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। অনুষ্ঠানের অনেক অংশেই কিবোর্ড ছাড়া অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ ঠিকমতো কানে লাগেনি। একটি অনুষ্ঠানকে শ্রুতিমধুর করে তুলতে হলে টেকনিক্যাল বিষয়েও নজর দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

প্রিয় শিল্পীর প্রিয় গান নামে বিটিভি চট্টগ্রামের একটি নিয়মিত অনুষ্ঠান আছে। গত মঙ্গলবার একই নামে দেখা গেল ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান। দিনাত জাহান মুন্নীর উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে গাইলেন তপন চৌধুরী। তার সমেয়র জনপ্রিয় সব গানে তিনি দর্শকদের মাতিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। উপস্থাপক নিজেই শিল্পী হওয়ার কারণে আলোচনা যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল তেমনি শিল্পীর সাথে গলাও মিলিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানের সাথেই তুলনা করা যেতে পারে অন্য গানের অনুষ্ঠানগুলোর। এবারে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানেও ছিলেন ঢাকার শিল্পী। এক সমেয়র জনপ্রিয় শিল্পী আলম আরা মিনু গেয়েছেন এবারের প্রিয় শিল্পীর প্রিয় গান অনুষ্ঠানে।

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রচারিত হল আলোচনা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গ। দিদার আশরাফির উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য সাবিহা নাহার বেগম, অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ এবং আলী আহমেদ শাহিন। পুরো অনুষ্ঠানেই উপস্থাপকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একসাথে তিন আলোচকই কথা বলে অনুষ্ঠানটিকে জগাখিচুড়ি বানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়েও আলোচনা টেনে এনে বিষয়বস্তুকে দুর্বল করেছেন আলোচকরা। আলোচনা শুনে আলোচকদের জানার পরিধি নিয়েও প্রশ্ন জাগে। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বলে সরকারের প্রশংসা করতে হয় ণ্ডএটা অলিখিত নিয়ম। কিন্তু সে প্রশংসারও যে একটা আর্ট আছে তা উপস্থাপক কিংবা আলোচকরা জানেন বলে অনুষ্ঠান দেখে মনে হয়নি। তাছাড়া বারবার একই আলোচকের আলোচনা যথেষ্ট একঘেঁয়েমি সৃষ্টি করছে।

x