গানের অনুষ্ঠানে তথ্যনির্ভর মার্জিত উপস্থাপনা

প্রাণ লাগুক আবৃত্তি অনুষ্ঠানে

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
19

মাঝে মাঝে এত বেশি সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রচারিত হয় যে, মনে হয় বিটিভি চট্টগ্রাম নয়, কোনো মিউজিক চ্যানেল দেখছি। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৪টি সঙ্গীতানুষ্ঠান প্রচারিত হয় এ কেন্দ্র থেকে, মাঝে মাঝে এমনো হয় যে, একটানা তিনটি অনুষ্ঠানের সবকটিই গানের অনুষ্ঠান। যেমনটি হলো গত সোমবার। প্রথমে প্রচারিত হলো পল্লীগানের অনুষ্ঠান, তারপরে নজরুল সঙ্গীতানুষ্ঠান এরপর আধুনিক গানের অনুষ্ঠান। বিকেলে যে গানের ধারা চালু হয়েছে রাত ৭টার খবরের আগ পর্যন্ত তা চালু থাকল। একটানা তিন ধারার গান শুনতে শুনতে কেউ কেউ বিরক্ত হতেই পারে, তবে ঢাকা কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান মনজুড়ানো। ১৩ অক্টোবর প্রচারিত সঙ্গীত বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘প্রাণে মনে অন্তরে’ তেমনই একটা অনুষ্ঠান। একইভাবে গতকাল ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রচারিত গীতি শতদল অনুষ্ঠান। দুটি অনুষ্ঠানই বেশ ভালো। সমঝদার দর্শকদের কাছে এমন অনুষ্ঠান একমনে দেখার মতোই। বিশেষ করে উপস্থাপনা। কতটা তথ্যনির্ভর, কমকথায় মার্জিত উপস্থাপনা করা যেতে পারে তা গীতি শতদলের ‘বয়স্ক’ উপস্থাপক রফিকুল আলম কিংবা প্রাণে মনে অন্তরের উপস্থাপক সালমা আকতারের কাছ থেকে শেখা যেতে পারে। বাহুল্যবর্জিত, গানের কথা ও ইতিহাসও কখনো কখনো ওঠে এসেছে উপস্থাপনায়। তারচেয়ে বড় কথা, গানের অনুষ্ঠানে কথা নয়, দর্শক গানই শুনতে চায়, সেটি এ দুটি অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের গানের অনুষ্ঠানগুলোর উপস্থাপক, শিল্পীরা এসব অনুষ্ঠান থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারেন। যদিও তাঁরা এসব অনুষ্ঠান দেখেন কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রচারিত হয়েছে আবৃত্তি অনুষ্ঠান কবিতায় শুনি হৃদয়ের ধ্বনি। নিয়মিত এ অনুষ্ঠানটির এবারের বিষয় ছিল শরৎ। শরতের রূপ যেনো শান্ত-স্নিগ্ধ-কোমল। যেখানে মলিনতা নেই, আছে নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছ্বাস। শরতে শেফালি, মালতী, কামিনী, জুঁই, টগর আর সাদা সাদা কাশ ফুল মাথা উঁচিয়ে জানান দেয় সৌন্দর্য। মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেয় চার পাশে। গ্রামীণ প্রকৃতিতে শরৎ আসে সাড়ম্বরে। যদিও ইট-কাঠের নগরীতে শরৎ থেকে যায় অনেকটা অন্তরালে। আবার, এই শরতেই হয়ে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আবৃত্তিতে ওঠে এসেছে এসব বিষয়। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শরতে আজ কোন অতিথি’ এবং শেষ সপ্ত থেকে ‘আজ শরতের আলোয়’ কবিতা দুটি আবৃত্তি করেন যথাক্রমে পূজা বিশ্বাস এবং যৌথভাবে পার্থ প্রতীম মহাজন ও নাসরিন সুলতানা নিশা।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘চাঁদনী রাতে’ ‘পড়ে শোনান’ ফারজানা মুনমুন, জীবনানন্দ দাশের ‘এখানে আকাশ নীল’ আবৃত্তি করেন সুজয় দে এবং ‘ডাহুকী’ আবৃত্তি করেন তাহসিন ইশরাক তানহা। নির্মলেন্দু গুণের ‘কাশফুলের কাব্য’ আবৃত্তি করেন সারোয়ার আলম দীপ এবং এএসএম এরফান আবৃত্তি করেন সৈয়দ শামসুল হকে ‘স্মৃতিময় শারদীয় হাওয়া’। শেষে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে প্রমা আবৃত্তি সংগঠন। অনেক আবৃত্তি শিল্পী আবৃত্তি করার সময় কবিতা পড়া আর আবৃত্তির মধ্যকার সাধারণ পার্থক্যটুকু ভুলে যান। আবৃত্তি বলতে শুধু দু’দশ লাইন কবিতা নিচু বা উচ্চৈঃস্বরে বিভিন্ন ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা নয়। আবৃত্তির একটা নিজস্ব ব্যাকরণ রয়েছে। নিজেস্ব তাল, লয়, রস, বোধ আছে। যা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে একটি পুস্তকবন্দি জড় শব্দ জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে। আবৃত্তি শিল্পীদের কাছে দর্শক হিসেবে আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি। অনুষ্ঠানের সেট ডিজাইন প্রশংসাযোগ্য। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন পৃথা পারমিতা রায়।

x