গলায় রশি পেঁচিয়ে খুন করা হয় কার চালক শিমুলকে

আসামি ইমনের জবানবন্দি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
147

প্রাইভেট কার চালক শিমুল খুনের ঘটনায় আটক রবিউল হোসেন ইমন গত রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) সরওয়ার জাহান এর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
জবানবন্দিতে সে জানিয়েছে, তারা চারবন্ধু মিলে প্রাইভেট কারটি ভাড়া নেয়। গাড়িটি সীতাকুণ্ডের হাতিলোড়া নামক স্থানে আসার পর চালককে গাড়ি থামাতে বলা হয়। পরক্ষণে গাড়ির পেছনের সিটে বসা রবিউল হোসেন ইমন তার কাছে থাকা রশি চালকের গলায় পেঁচিয়ে টান দেয় এবং অন্যরা তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তাদের একজন চালকের আসনে যায় আর মৃত চালককে পেছনের সিটে ওই দুজনের মাঝখানে বসিয়ে দেয়া হয়। এ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করে তারা।
ইমন আরো জানান, তারা গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে চালককে খুন করে। খুনের পর লাশটি টোল রোড হয়ে কাট্টলী সৈকত এলাকায় বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়ার জন্য যাওয়ার কথাও স্বীকার করে সে। আকবরশাহ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ মহিবুর রহমান বলেন, এ চক্রটি যাত্রীবেশে পেশাদার গাড়ি ছিনতাইকারী। তাদের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অপর একজনকে ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেফতার তিনজন হলো- নোয়াখালীর চাটখিলের মাহফুজুর রহমানের পুত্র মীর হোসেন নিশান (২১), সীতাকুণ্ডের রহমত নগরের মো. রফিকের পুত্র রবিউল হোসেন ইমন (২০), রাউজানের উরকিরচর এলাকার আবদুল সালামের পুত্র নেওয়াজ শরীফ (২৪)। তাদের অপর সহযোগী হলো সীতাকুন্ডের গোলাবাড়ীয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র জসিম উদ্দিন নিশান (২২)। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদের মধ্যে মীর হোসেন নিশান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র।
আকবর শাহ থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, খুনের শিকার চালক সীতাকুণ্ডের আমিরাবাদ এলাকার আবুল কালাম ওরফে আলমের পুত্র নুরুল গণি শিমুল (২২)। তিনি ওই এলাকার জনৈক উজ্জ্বল কুমার দের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক। ওই চার যুবক শুক্রবার রাতে সীতাকুন্ড থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ১৫ শ টাকায় প্রাইভেট কারটি ভাড়া করে। তাদের একজন চালক শিমুলের পাশে বসে। বাকি তিনজন পেছনের সিটে বসেছিল। চালককে খুন করার পর লাশটি বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে দিতে যাচ্ছিল ওরা চারজন। ঈশান মহাজন রোড হয়ে ঘোষ বাড়ির কাছে পৌঁছলে প্রাইভেট কারের চাকা ড্রেনে আটকে যায়। গাড়ি পেছনের দিকে তুলতে গিয়ে সবিতা রাণী বিশ্বাস নামে এক নারীর বাড়ির সামনে গ্যাস লাইনের পাইপে ধাক্কা লাগে। এতে সবিতা রানীর সঙ্গে চারজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হলে পেছনের সিটে দুই যুবকের পাশে অপরজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। লোকজন গাড়িতে লাশ কেন তা নিয়ে হৈ চৈ শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে গাড়ি থেকে নেমে চার যুবক পালাতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয়রা নিশান ও ইমনকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। ঘটনার পরদিন সকালে চান্দগাঁও এলাকা থেকে নেওয়াজ শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাইভেট কার থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রশি ও একটি ছুরি পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়া খুনি চক্রের সদস্য জসিম উদ্দিন নিশান পেশাদার গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা। এর আগেও এ ধরনের অপরাধ করেছে সে। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় ছয়টির মতো মামলা রয়েছে। সমপ্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নিশানসহ কয়েকজনকে নিয়ে নতুন দল গঠন করে জসিম। নুরুল গণি শিমুল হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে আকবরশাহ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

x