গরুর বাজারে বেচা-কেনা শুরু

জাহেদুল কবির

সোমবার , ২০ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
296

কোরবানির ঈদের সময় বাকি আছে আর মাত্র দু’দিন। তাই পশুর বাজারগুলোতে রয়েছে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। ক্রেতা উপস্থিতি বাড়লেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পশু বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানান বেপারিরা। তারা জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজারে হাতেগোনা ক্রেতা ছিল। তবে বিকেলের দিকে বাজারে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে। এছাড়া সন্ধ্যার পর নগরীর প্রধান দুই বাজার সাগরিকা ও বিবিরহাটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতির তুলনায় পশু সেভাবে বিক্রি হয়নি। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বেপারিরা এখনো পশুর দাম ধরে রেখেছেন। ছোট ও মাঝারি আকারের গরু ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশুবাহী প্রচুর ট্রাক নগরীর বাজারগুলোতে প্রবেশ করছেবিভিন্ন গণমাধ্যমে গত কিছুদিন ধরে এমন খবর নিয়মিত প্রচার ও প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া বাজারগুলোতেও এখনো প্রচুর গরু দৃশ্যমান রয়েছে। তাই ক্রেতারা ভাবছেন শেষ মুহূর্তে দাম কমতে পারে। তাই প্রতিদিন বাজারে ক্রেতারা ভিড় করলেও পশু কেনার ব্যাপারে তারা এখনো সন্দিহান আছে। অনেক ক্রেতা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। আবার শহরের বাসা বাড়িতে রাখতে অসুবিধা হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েও অনেক গরু কিনেন নি।

সরেজমিনে গতকাল সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ও বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমে উঠতে শুরু করেছে এই দুই বাজার। ক্রেতারা দেখেশোনে পছন্দের গরুটির দরদাম করছেন। পছন্দ হলে মূল্য ও হাসিল পরিশোধ করে খুশিমনে পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

সাগরিকা বাজারে নগরীর মুরাদপুর থেকে আসা ক্রেতা আলী আজগর বলেন, বিক্রেতারা গরুর দাম হাঁকিয়েছেন এক লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকায় দফারফা করলাম। গরুর দাম চিন্তা করলে হয়তো একটু বেশি হয়েছে। যেহেতু কোরবানি দিচ্ছি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। সুতরাং সুন্দর গরু কিনতে হলে টাকার দিকটা একটু ছাড় দিতেই হয়। সাগরিকা বাজারে আসা অপর ক্রেতা নাজমুল হক বলেন, বাজারে এখনো প্রচুর গরু। সাগরিকা মূল বাজার ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাতের প্রচুর গরুর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতারা এখনো বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। তাই গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে ঘুরাঘুরি করেও গরু মিলাতে পারছি না।

সাগরিকা বাজারের গরু বেপারি ইসমাইল আলী বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ছয়জন মিলে ১৩০টি গরু এনেছি। এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ৪০টি। বাজারে গত দু’দিন ধরে ক্রেতা বেড়েছে। কিন্তু তারা গরুর দাম বলছেন অনেক কম। প্রতি বছর আমাদের গরুর প্রতি পালন ব্যয় বাড়ছে। গোখাদ্যের দামও গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় ও নিজেদের আনুষাঙ্গিক ব্যয় তো আছেই।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার জামশেদ খান বলেন, গরু বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। আজ (গতকাল) সকাল থেকে বাজারে প্রচুর ক্রেতা ছিল। বেচাবিক্রিও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এখন যেহেতু সময় বেশি বাকি নেই তাই আশা করি সামনের দু’দিন খুব ভালো বিক্রি হবে।

এদিকে নগরীর কর্ণফুলী মইজ্জারটেক পশুর বাজার ও কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিংয়ের পশুর বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই দুই বাজারে দেশী গরুর সংখ্যাই বেশি। ক্রেতার উপস্থিতি বাড়লেও কাঙ্খিত বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নুর নগর হাউজিং বাজারের গরু বেপারি সালেহ আহমদ বলেন, গত দু’দিনে ১২টি গরু বিক্রি করেছি। এখন আরো ২১টি অবিক্রিত আছে। তাই একটু টেনশনে আছি। শেষ দিনের আগেই সবগুলো গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

মইজ্জারটেক বাজারের গরু বেপারি আবুল কাশেম বলেন, কোরবানির সময় একেবারে সন্নিকটে। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা মতো বিক্রি এখনো করতে পারিনি।

মইজ্জারটেক বাজারের ইজারাদার বেলাল হোসেন বলেন, বাজারে এ বছর প্রচুর গরু এসেছে। আজ (গতকাল) সকাল থেকে ক্রেতাও ছিল। বিকেলের দিকে বেঁচাবিক্রি কম হলেও সন্ধ্যার পর বেড়েছে। যেহেতু এখন সময় নেই, তাই আশা করি আগামীকাল (আজ) ভালো বিক্রি হবে।

অন্যদিকে নগরীর স্টিলমিল গরু বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের গরু বাজার, কমল মহাজন হাটেও ক্রেতা সমাগম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। সেখানকার বেপারিরা জানান, বাজারে গরুর কোনো সংকট নেই। ইতোমধ্যে বাজার জমতে শুরু করেছে। আগামী দু’দিন বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে বলে তারা জানান।

চট্টগ্রাম গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তফা সওদাগর বলেন, বাজারে এখনো উত্তরাঞ্চল থেকে পশুবাহী ট্রাক শহরে প্রবেশ করছে। ক্রেতা আছে কিন্তু বিক্রি নেই। ক্রেতারা হয়তো ভাবছেন যেহেতু বাজারে প্রচুর গরু তাই শেষ মৃহূর্তে গরুর দাম কমবে। তবে এক্ষেত্রে গত বছরের মতো উল্টোটাও হতে পারে।

সিএমপি কমিশনারের পশু বাজার পরিদর্শন : গতকাল বিকেলে নগরীর বিভিন্ন পশুর বাজার পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। বাজার পরিদর্শনকালে কোরবানীর গরু বিক্রি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দেন তিনি। এছাড়া তিনি বলেন, গরু বাজারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি ও ছিনতাইকারীদের বিষয়ে ক্রেতাবিক্রেতা উভয়কেই সচেতন থাকার পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত বুথে গিয়ে সহায়তা নেওয়ার অনুরোধও জানান সিএমপি কমিশনার। পরিদর্শকালে অন্যদের মধ্যে উপিস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আমেনা বেগম, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণসহ প্রমুখ।

x