গরুর খাঁটি দুধের বাজার

অপু ইব্রাহিম : সন্দ্বীপ

সোমবার , ২৯ জুলাই, ২০১৯ at ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
273

সন্দ্বীপে প্রতিদিন সকালে বসে গরুর খাঁটি দুধের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গরুর খামার এবং গৃহপালিত গরু মহিষের থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রয় করেন বিক্রেতারা । প্রতি কেজি গরুর দুধ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। খাঁটি দুধের এই বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষণীয়। সন্দ্বীপের বড় বড় বাজার শিবেরহাট, ধোপারহাট, আলীমিয়া বাজার, চৌধুরী বাজার, গুপ্তছড়া বাজার, সেনেরহাট, তালতলীবাজার, চৌমুহনী বাজার, আকবর হাটে সকালে খাঁটি দুধ পাওয়া যায়। তবে পন্ডিতের হাটে বিকালেও পাওয়া যায়। সন্দ্বীপের অধিকাংশ বাড়িতেই ২/৩টি করে গরু পালন করা হয়। ফলে দুধের বিশাল ঘাটতি পূরণে সহায়তা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে সন্দ্বীপের বিয়ে শাদীতে দই এর রেওয়াজ বহু দিনের পুরোনো। প্রতিদিন পাইকারীভাবে দুধ ক্রয় করে দইয়ের ঘাটতি পূরণ করে ব্যবসায়ীরা।
গরুর খাঁটি দুধ হাতও দল বদল হলে শহরে গিয়ে দুধ আর ততটা খাঁটি থাকেনা। তাই সন্দ্বীপের এ বাজারগুলো হচ্ছে খাঁটি দুধের বাজার। দুধের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বোতল কিংবা জগে ভর্তি দুধ সাজিয়ে বসে আছেন অনেকে। ক্রেতারা এসে পরিমাণ মতো দুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ধোপারহাট বাজারে ফোরকান উদ্দিন নামে একজন দুধ কিনতে এসেছিলেন। তিনি জানান, নাতির জন্য প্রতিদিন দুধ লাগে। দাম একটু বেশি হলেও দুধ ভেজালমুক্ত।
দুধ বিক্রতা মো. বেলাল বলেন, আগে আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী ৪০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করে দিতাম। এখন আমরা এই হাঁটে খুচরা দুধ বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন হোটেলে পাইকারি দরে দুধ বিক্রয় করে থাকি। হোটেল মালিকরা দুধ দিয়ে দই, রসগোল্লা, সন্দেশসহ বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি তৈরি করে থাকে। আমার ৪টি গাভী গরু রয়েছে। প্রতিদিন ১০/১২ কেজি দুধ দেয় গরুগুলি। তবে ভূষির দাম বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হয়ে যায়।
সন্দ্বীপে স্যানেটারি কার্যক্রম না থাকার অভিযোগ অনেকের। ফলে দুধ কখনও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় না। এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক নুরুল আনোয়ার হিরন বলেন, বর্তমানে চারদিকে ভেজালের ছড়াছড়ি। তাই মাঝে মাঝে দুধ পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে। প্রতিটি মানুষেরই দুধ পান করা প্রয়োজন। দুধে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই।

x