গতানুগতিকার বাইরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা

এম. মোরশেদ

শনিবার , ৫ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২০ পূর্বাহ্ণ
132

সজ্জিত, প্রশস্ত ও আলোকিত ক্লাসরুমে মাত্র ৩০ জন ছাত্রছাত্রী। গতানুগতিক ব্ল্যাকবোর্ডের পরিবর্তে ইন্টিরেকটিভ হোয়াইট বোর্ডে ভেসে উঠছে পাঠ্য অংশের লেকচারশিট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পর্দায় ভেসে উঠছে পাঠ সংশ্লিষ্ট রঙিন ছবি। সাউন্ড সিস্টেমে শিক্ষকের স্পষ্ট উচ্চারণ শুনছে শেষ চেয়ারের শিক্ষার্থীও। বইয়ের পাতার জড় শব্দ ও ছবিগুলো বড্ড জীবন্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে ধরা পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে। অডিও ভিডিও ক্লিপসের উপস্থাপনায় অংকের জটিল সূত্র কিংবা বিজ্ঞানের দুর্বোধ্য বিষয় সবকিছুই সহজ মনে হচ্ছে। ছোট্টমণিরা তাদের বইয়ের ছড়া, ছবি আর বর্ণমালাগুলোকে জীবন্ত দেখছে ডিজিটাল স্ক্রিনে আর মেলে ধরছে তার কল্পনার ডানা! এমন একটি স্কুল একসময় কেবলই কল্পনার মনে হলেও একে বাস্তবতায় রুপ দিয়েছে সাউথ এশিয়ান স্কুল।
আনন্দময় শিক্ষা
অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক সৈয়দ লকিতুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, শিশুদের কাঁধে বইয়ের বোঝা নয়, ওরা শিখবে আনন্দের মাঝে-এই নীতিতেই শিশুবান্ধব ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, ছবি ও আসবাবপত্রে সজ্জিত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্লে, নার্সারী এবং কেজি (ইংরেজী ভার্সন, ন্যাশনাল কারিকুলাম) শ্রেণীর ক্লাসরুমগুলো সত্যিই নজর কাড়ার মত। ছোট্ট সোনামণিদের জীবনের প্রথম পাঠটি দেয়ার জন্য রয়েছেন শিশু মনোবিজ্ঞানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষিকাগণ, যারা মাতৃসুলভ মমতায় শিশুদের আপন করে নেন। ছড়া, অভিনয়, আবৃত্তি কিংবা গানের সুরে পড়ানোর সাথে সাথে ছবি, চার্ট, খেলনাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করেন শিক্ষিকাবৃন্দ। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ক্লাসে এনিমেশন, গেমস, পাজল, স্টোরির মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছি। ফলে পাঠ্য বইয়ের বর্ণমালা, ছড়া কিংবা ছবিগুলো যখন ডিজিটাল স্ক্রিনে জীবন্ত হয়ে উঠে তখন কোমলমতি শিশুদের কাছে পাঠ্যবিষয়গুলো হয়ে ওঠে সহজতর এবং আকর্ষণীয়।
ব্যতিক্রমী শিক্ষণ পদ্ধতি
সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক ক্যাম্পাস। আমরা অনুসরণ করি ব্যতিক্রমী শিখন পদ্ধতি Method-69 যাতে রয়েছে বেসিক ক্লাস : এতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে সহজ এবং গবেষণালব্ধ পদ্ধতিতে এনিমেশন, গেমস,পাজল,স্টোরীর মাধ্যমে এর মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। ভিডিও ক্লাস : প্রতিটি অধ্যায়ের উপর ৩/৪টি মূল ক্লাস থাকে। মূল ক্লাস শেষ হবার পর ভিডিও ক্লাস এর মাধ্যমে যে কোন শিক্ষার্থী কঠিন বিষয়গুলোর ভিডিও বার বার দেখে তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে। গ্রুপ ওয়ার্ক: সৃজনশীল পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগের বা বাস্তবায়নের পূর্বশর্তই হলো ক্লাসে গ্রুপ ওয়ার্ক।এতে ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে। ফিডব্যাক ক্লাস: ছাত্র-ছাত্রীরা কতটুকু অর্জন করল তা যাচাই বাছাই করাই এর মূল উদ্দেশ্য। প্রেজেন্টেশন ক্লাস: প্রতি মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের অর্জিত জ্ঞান ক্লাসরুমে সকলের সামনে উপস্থাপন করে।
প্রাইভেট পড়তে হয় না
প্রতি বছর পিএসসি, জেএসসি ও এস এস সি পরীক্ষায় ৫০% A+ সহ শতভাগ পাশের রেকর্ডধারী সাউথ এশিয়ান স্কুলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী কর্তৃক বিজ্ঞানসম্মত স্বতন্ত্র Method-69 পদ্ধতিতে পাঠদানের ফলে ডিজিটাল ক্লাসরুম এ ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ হয়। শ্রেণীশিক্ষক ছাড়াও রয়েছেন প্রতি ৩০ জনের জন্য একজন করে গাইড শিক্ষক, যিনি শিক্ষার্থীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করেন। প্রতিটি পাঠ শেষে চলে সৃজনশীল প্রশ্নের অনুশীলন এবং দেয়া হয় লেকচারশীট এবং প্র্যাকটিস শীট। Daily Auto SMS alert এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর স্কুলে উপস্থিতি ও স্কুল ত্যাগের বিষয়টি সময় উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক অভিভাবকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে দেয়া হয়।
সহশিক্ষা কার্যক্রম
শিক্ষার্থীর সুপ্ত মেধার বিকাশ ও সৃজনশীল প্রতিভা বৃদ্ধির জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরিচালনায় রয়েছে, স্পোকেন ইংলিশ, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, খেলাধুলা (আউটডোর/ইনডোর), শরীরচর্চা, দেয়ালিকা প্রকাশ, চিত্রাংকন, নাচ ও গান ও বিতর্ক চর্চা। মহান একুশে, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসসহ সকল জাতীয় দিবস উদযাপিত হয় সাড়ম্বরে।
আরও বিস্তারিত জানতে গুলজারের পশ্চিমে, ১০১, চট্টেশ্বরী রোড, চকবাজার এই ঠিকানায় এবং ০১৯৮৩-৪১৫৪৫৬, ০১৯১৭-৬৫৪৮৮১ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। লগ ইন করতে পারেন www.sas.edu.bd সাইটে।

- Advertistment -