গণমানুষের কাগজ

আশীষ কুমার বড়ুয়া

সোমবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ
14

পারিবারিক সংস্কৃতির কারণে আমাদের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে সেই কৈশোর বয়স থেকে। সময়টা ৭০-৮০’র দশক। আমরা ভাই- বোন সকলেই ছিলাম স্কুলের ছাত্র- ছাত্রী। বলা যায়, তখন থেকে বড় হরফে দৈনিক আজাদী লিখাটি চোখ ও মনের সাথে ভালোলাগার একটা সেতুবন্ধন তৈরি করে দিয়েছিলো। কৈশোরে গড়ে ওঠা আজাদী’র সাথে আমার সেই প্রেম- ভালোবাসা এখনো অমলিন রয়ে গেছে। মনে পড়ে আমাদের ৪নং সার্সন রোডের আধাপাকা টিনের ছানির বাসার কথা। ভাই’রা ছিলাম ৫/৬জন। দীপক’দা তখন থেকে শিশুতোষ ছড়া লিখতেন। তাই; হকার থেকে কার আগে কে দৈনিক আজাদী পত্রিকা নিয়ে প্রথম চোখ বুলাবে তার একটা নীরব প্রতিযোগিতা চালু ছিলো। সেই সংস্কৃতি এখনো আমাদের পরিবারে চালু আছে। তার একটাই কারণ আজাদী’র পরিচালনা পর্ষদ আজাদীকে গণমানুষের কাগজে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। একটি খবরের কাগজ বাণিজ্যিক ঘরানার মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে পাঠক ও লেখক তৈরিতে অসামান্য ভূমিকা রাখতে পারে আজাদী সেটি প্রমাণ করে দিয়েছে। আজ যেটি আজাদীকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কাজ, হকার দরজার নীচে আজাদী রেখে গেছে কিনা তা দেখা…। আজাদী হাতে না পাওয়া পর্যন্ত একটা প্রতীক্ষার ক্ষণ বহন করে যাওয়ার যে কষ্ট সেটি আজাদী প্রেমিক ছাড়া কেউ বুঝবে না। আজাদীর প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত না দেখলে মনের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। আজাদীতে লেখা প্রকাশে মাননীয় সম্পাদকের নির্মোহ পৃষ্ঠপোষকতা আমাকে অনেকখানি ঋণী করেছে। নিজের ছোট ছোট শব্দের অনুভূতিগুলোকে অক্ষরের ফ্রেমে সাজিয়ে যে ছোট প্রবন্ধ লিখা যায় তা আজাদী শিখিয়েছে। এখন সেটা একটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পাঠক ও লেখক সৃষ্টিতে আজাদীর এই নীরব বিপ্লব ভবিষ্যতে সংস্কৃতিপ্রেমি সমাজ বিনির্মাণে বিশাল ভূমিকা রাখবে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

x