খেজুর ভুট্টা শসা পেয়ারার পুষ্টিগুণ

শনিবার , ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
106

খেজুর

কেবল রমজানের সময় নয়, খেজুর খেতে পারেন সবসময়ই। প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেলে দূরে থাকা যায় বিভিন্ন রোগ থেকে। খেজুর দিয়ে মজাদার সব মিষ্টান্ন বানিয়ে খেতে পারেন। জেনে নিন প্রতিদিন কেন খেজুর খাবেন। নিয়মিত খেজুর খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। কারণ এটি হজম শক্তি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন বাড়ায়। ঝটপট এনার্জি বাড়াতে চাইলে খেজুরের বিকল্প নেই। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি, গ্লুকোজ ও অন্যান্য উপাদান শরীরের ক্লান্তি দূর করে। খেজুরে থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়ায় কর্মক্ষমতা। প্রতিদিন খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। বদহজমের সমস্যাও দূর হবে নিয়মিত খেজুর খেলে। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

শসা

গরম পড়তে শুরু করেছে। গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে প্রতিদিন একটি করে শসা খেতে পারেন। নিয়মিত শসা খেলে দূরে থাকা যায় বিভিন্ন রোগ থেকেও। প্রতিদিনের পানির চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পাওয়া যায় খাবার থেকে। শসার ৯০ শতাংশই পানি। তাই প্রতিদিন শসা খেলে শরীর পানিশূন্য হবে না। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি পাওয়া যায় শসা থেকে। লো ক্যালোরিসমৃদ্ধ শসায় রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ম্যাংগানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, রিবোফ্লাভিন এবং ম্যাগনেসিয়াম। ক্ষুধা লাগলে অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে শসা খান। এটি অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখবে। শসা চিবিয়ে খেলে মুখে থাকা জীবাণু দূর হয় ও দাঁত ভালো থাকে। শসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, বেটা-ক্যারোটিন ও ম্যাঙ্গানিজ শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করে। শসায় রয়েছে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৫ এবং ভিটামিন বি৭। এসব ভিটামিন এনার্জি প্রদান করে শরীরকে। প্রতিদিন শসা খেলে চুল, ত্বক ও নখ ভালো থাকে। হজমের গণ্ডগোল দূর করে শসা। হার্ট সুস্থ রাখে।

ভুট্টা
কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, ভুট্টার রয়েছে নানা পুষ্টিগুণও। প্রতি ১০০ গ্রাম ভুট্টায় ১৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেইট, ২ গ্রাম ফাইবার, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ এর কম চর্বি এবং ৮৬ ক্যালোরি থাকে। জেনে নিন ভুট্টার উপকারিতা কী কী। ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লৌহ বা আয়রন যা রক্তের লোহিত কণার প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদা পূরণ করে। ফলে রক্তশূন্যতা দূর হয়। ভুট্টায় রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যা হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। মিষ্টি ভুট্টা বা ‘সুইট কর্ন’ আঁশজাতীয় শস্য। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেটের যৌগ। ফলে এটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে ভুট্টা। এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শরীরে ইন্সুলিনের শোষণ ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে রক্তে শকর্রার পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমে। একটি ভুট্টা শরীরে এক টন বিটা ক্যরোটিন সরবারহ করে যা চোখ ও ত্বকের জন্য খুবই ভালো।
সাবধানতা : ভুট্টার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও কিন্তু রয়েছে। যেমন ‘ইনজেস্টিবল প্রোটিন’ থাকায় ভুট্টা থেকে অনেক সময় অ্যালার্জি হতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা ভুট্টা খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত ভুট্টা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

পেয়ারা

আসছে পেয়ারার মৌসুম। যদিও সারা বছরই কমবেশি এই ফলটির দেখা মেলে বাজারে। ভিটামিন সি’র চমৎকার উৎস পেয়ারা খেলে বাড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এছাড়া এটি ভালো রাখে ত্বক, চুল এবং চোখ। ঠাণ্ডা, কাশির মতো রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন নিয়মিত পেয়ারা খেলে। কারণ এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত পেয়ারা খেলে শরীরের পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়ে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। পেয়ারাতে থাকা লাইকোপেন, কুয়েরসেটিন, ভিটামিন সি এবং পলিফেনল শরীরের ভেতরে জমতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে ক্যানসার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। ফাইবারসমৃদ্ধ পেয়ারা খেলে দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য। প্রতিদিন পেয়ারা খেতে পারলে ত্বক সুন্দর ও টানটান থাকবে। ভিটামিন বি৩ এবং বি৬ পাওয়া যায় পেয়ারা থেকে। এসব উপাদান মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম লেভেল ঠিক রাখার মধ্য দিয়ে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে পেয়ারা। এছাড়া ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতেও ফলটি কার্যকর। প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ থাকার কারণে নিয়মিত পেয়ারা খেলে দৃষ্টিশক্তির ভালো থাকে। চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলেও খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে।

x