খেজুর কী ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো?

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ১০ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
430

আমাদের দেহে অর্থাৎ অ্যাবডোমেন বা পেটের উপরিভাগের প্রায় মাঝ বরাবর একটি অরগ্যান আছে যাকে বলে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস। এই প্যানক্রিয়াস থেকে ক্ষরিত হয় ইনসুলিন। বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত এই ইনসুলিন মানবদেহে চিনি বা সুগারের পরিমাণ বা লেভেল সঠিক রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত মানুষের স্বাভাবিক সুগার লেভেল থাকে শতকরা ৮০-১৪০ মিলিগ্রামের মত। এই পরিমাণ মাত্রা কমলে দেহে এক ধরনের পরিস্থিতি বা উপসর্গ দেখা দেয়াকে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আবার যদি সুগারের মাত্রা ১৪০ এর বেশি (সর্বাধিক-২০০) হয় তাহলে ঐ অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ। এই মাত্রা আবার সবার ক্ষেত্রে সমান নাও হতে পারে। কারও কারও ১৪০ মি.গ্রা. এর নিচেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। আবার কেউ কেউ ২০০ এর উপরেও ভাল থাকেন। তবুও ১৪০ মি. গ্রামকে টার্গেট লিমিট করে রাখতে হবে। কোন রোগ বা অন্য উপসর্গ বিটা কোষ নষ্ট হলে অথবা ঐ সেলের কার্যকারিতা কমে গেলে ইনসুলিন ক্ষরণও কমে যায় এবং ডায়াবেটিস দেখা দেয়।
আর ডায়াবেটিস হলেই সাধারণত মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া বারণ করেন ডাক্তার’রা। তাই খেজুর মিষ্টি হওয়াতে খেজুর কী ডায়াবেটিসের জন্য ভালো? পুষ্টিবিদরা বলেন, খেজুর হচ্ছে সেই সুপারফুড যাতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আঁশ, উপকারী তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, কপার এবং আরও নানাবিধ খনিজ, রয়েছে উপকারী ভিটামিনও। এটি দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়, শরীরে শক্তি যোগায়, হার্ট সবল রাখে। প্রচুর অ্যান্টি অ্যাঙিডেন্টে পরিপূর্ণ এ ফলটিতে সুগারও আছে পর্যাপ্ত। পুষ্টিবিদরা বলেন চাইলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন খেজুর। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা খেজুর খেতে পারেন দই দিয়ে। এতে তাদের গ্লাইকেমিক কন্টোলে সুবিধা হয়। যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা স্বাভাবিকভাবে দৈনিক ৩-৫টি খেজুর খেতে পারেন। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রোজা ভাঙ্গার জন্য সবচেয়ে কার্যকর। তবে খেজুর খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে সকালবেলা। ভারতীয় ডায়াবেটোলজিস্ট রোশানি গ্যাজ বলেন, যদি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন খেজুর। তবে খেজুর খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। তবে পুষ্টিবিদরা বলেন, ডায়াবেটিস রোগীরা দৈনিক ৬ থেকে ৮ টি খেজুর খেতে পারেন। তবে বেশি খেজুর খেলে মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে। এছাড়াও দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ের রোগেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণ খেজুর খাওয়া উচিত।

x