খুনের অভিযোগে আদালতে ট্যারেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হত্যাকাণ্ড

আজাদী অনলাইন

শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০১৯ at ১:২৩ অপরাহ্ণ
292

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গতকাল শুক্রবার (১৫ মার্চ) মসজিদে গুলি চালিয়ে ৪৯ জন্ মানুষকে হত্যা করার পর গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে শুধু একটি খুনের অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এসময় ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় এই নাগরিককে হাতকড়া ও সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ গঠনের কথা আশা করা হচ্ছে।

তবে বন্দি অপর দু’জনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকলেও নিউজিল্যান্ড পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্ন বলেন, ‘ট্যারেন্টের কাছে ৫টি বন্দুক ও অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল।’

তিনি নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনবেন বলেও উল্লেখ করেন।

আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী হাজিরার দিন পর্যন্ত ট্যারেন্টকে আটক রাখার আদেশ হয়েছে।

এক মিনিটের মতো সময় এজলাসে ছিলেন ট্যারেন্ট। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা খুনের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক পল কেলার।

ট্যারেন্টকে এজলাস থেকে নিয়ে যাওয়ার পর বিচারক বলেন, ‘এই মুহূর্তে মাত্র একটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামির বিরুদ্ধে, কিন্তু এটা ধরে নেয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে যে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে।’

ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারী ট্যারেন্টকে ‘উগ্র ডানপন্থি একজন সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করেছিলেন। আর এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদ বলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুইটি মসজিদে ট্যারেন্টের গুলিতে ৪৯ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।

দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী ট্যারেন্ট গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যান এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করেন।

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

একটি মসজিদে হামলার পুরো ঘটনা হেলমেটে লাগানো ক্যামেরায় ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা ছড়ান ট্যারেন্ট।

হামলা চালানোর আগে হামলার উদ্দেশ্য ও নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন।

x