খুদে কবি তামীমের ইচ্ছে ভবিষ্যতে বড় উপন্যাসিক হওয়ার

ছোটন কান্তি নাথ : চকরিয়া

সোমবার , ৪ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
60

ছোটকাল থেকেই গল্প, উপন্যাস, কবিতা, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ের ওপর দৃষ্টি ছিল তানভীর মোর্শেদ তামীমের। সমাজের নানা অসঙ্গতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে নিজেই লিখতো কবিতা, তৈরি করতো প্রবন্ধও। আর সেই কবিতা ও প্রবন্ধ পড়ে বেশ মুগ্ধ হতেন স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সহপাঠী বন্ধুরাও। এভাবে একের পর এক কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে তামীম বেশ সাড়া ফেলে তাদের মাঝে। কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে স্কুলজীবনে কুড়িয়েছে অনেক সফলতাও। তার ইচ্ছা, একদিন দেশের একজন সেরা কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে আভির্ভুত হওয়া। এজন্য দুই বাংলার কবি, উপন্যাসিক, সাহিত্যিকদের লেখায় বেশ মনোনিবেশ করছে।
খুদে কবি তামীম উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা সপ্তাহের রচনা প্রতিযোগীতায় তাৎক্ষণিক দেওয়া বিষয় ‘ভাষা আন্দোলন’ এর ওপর ৪০ মিনিটের মধ্যে রচনা লিখে উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠত্বে’র খেতাব অর্জন করে। ঢাকায় এবারের মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত অমর একুশের বইমেলায় ‘শব্দমেট্রো’ প্রকাশনা থেকে বের হওয়া ‘শব্দসিঁড়ি গল্প ও কাব্য সংকলন’ বইয়ে তার লেখা ‘তোমরা রক্তচোষা’ কবিতা স্থান পেয়েছে। ইতোপূর্বে দুই বাংলার নবীন গল্পকার ও কবিদের কাছ থেকে আহবানকৃত গল্প ও কাব্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ২০টি কবিতা স্থান দেওয়া হয় ওই বইতে। যেখানে তামীমের লেখা ‘তোমরা রক্তচোষা’ কবিতাটি স্থান করে নেয়। বইটি পাওয়া যায় মেলার গাজী প্রকাশনীর স্টলে (৩৪২ ও ৩৪৩)। বর্তমানে সে ‘পারমিতা’ নামক একটি উপন্যাস লিখছেন। এই উপন্যাসে থাকবে প্রেম-ভালবাসা, বিরহ, আর ধ্বংসস্তূপ থেকে গড়ে উঠা এক বিস্ময় বালকের কাহিনী।
খুদে কবি তানভীর মোর্শেদ তামীমের বাড়ি কঙবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মাহাপিয়া বাপের পাড়ায়। সে ওই এলাকার গোলাম মোর্শেদ ও মোস্তফা সুলতানার চার পুত্র ও কন্যা সন্তানের মধ্যে তৃতীয়।
তামীমের জন্ম ২০০২ সালের ৫ নভেম্বর। ২০১২ সালে পূর্ব বড় ভেওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পন্নের পর ২০১৩ সালে জি এন এ মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার সূচনা হয়। ২০১৫ সালে জেএসসি এবং ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভাল ফলাফল করে তামীম। বর্তমানে ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন করছে সে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সে। এসব সংগঠনের ব্যানারে সে সামাজিক অনেক কর্মকাণ্ডের সাথেও সম্পৃক্ত। সে বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার কঙবাজারে ‘পাঠক’ এবং বাংলাদেশ কবিসভার ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সদস্য, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিবারের (বাসাসপ) কঙবাজার জেলার যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছে। সৃষ্টিশীল সংগঠন ‘শব্দমেট্রো’র সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগের কনিষ্ঠ দায়িত্বের ভার তার কাঁধে।
মাধ্যমিকে পড়ালেখার সময় পূর্ব বড় ভেওলা জি এন এ মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক জয়নাল আবেদীন তাকে বেশ উৎসাহিত করতো। মূলত শিক্ষক ও সহপাঠীদের উৎসাহে তামীম সপ্তমশ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এসব বিষয়ে মনোনিবেশ করতে থাকে পড়ালেখার ফাঁকে।
শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার ছাত্র তানভীর মোর্শেদ তামীম বয়সে ছোট হলেও তার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে বেশ। সে এক প্রতিবাদী খুদে লেখক হিসেবে আশপাশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অন্যায়-অবিচার দেখে প্রতিবাদস্বরূপ কবিতা লিখতে বেশ অভ্যস্ত। তার লেখা কবিতায় ফুটে উঠতো সেই চিত্র। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বেশ আশ্চর্য লাগতো তার লেখা কবিতা ও গল্পগুলো। কারণ তার লেখা কবিতা ও প্রবন্ধগুলো সমাজের নানা চিত্রের সঙ্গে মিলে যেত।’
শিক্ষক জয়নাল আবেদীন আরো বলেন, ‘তামীমের মধ্যে যে মেধা ও প্রতিভা আমি দেখেছি, সে চর্চা করলে ভবিষ্যতে একজন বড়মাপের লেখক ও কবি হিসেবে আভির্ভুত হতে পারবে। হয়তো একদিন সে জাতীয়ভাবে নানা ধরণের পুরস্কারও অর্জন করতে পারবে। এজন্য আমি তাকে অন্তর থেকে দোয়া করি।’
তামীমের বন্ধু ও সহপাঠী নারায়ণ চৌধুরী, আয়াতুর রহমান, মিনহাজ উদ্দিন ও আবিদুর রহমান জানায়, মাধ্যমিকে অধ্যয়নের সময় তাদের একটা সার্কেল ছিল।
সেখানে নেতৃত্ব দিতো তামীম। সমাজে ঘটে যাওয়া তাৎক্ষণিক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে আমাদেরকে শোনাতো। তার লেখা এসব প্রতিবাদী কবিতা ও প্রবন্ধ পড়ে ও শোনে তারাও বেশ মুগ্ধ হতো। তামীমের লেখায় প্রেম-ভালবাসা, মায়া-মমতার একটা মেলবন্ধন ছিল বেশ।
খুদে কবি তানভীর মোর্শেদ তামীম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘যখন আমি বড় হতে থাকি তখন আমার মধ্যে সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে প্রতিবাদী শিহরণ জেগে উঠে। তখনই প্রতিবাদস্বরূপ স্ব স্ব বিষয় নিয়ে কবিতা, প্রবন্ধ লিখতে বসতাম। আমার লেখা কবিতা ও প্রবন্ধ পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী বন্ধুরা বেশ প্রশংসা করতেন। এতে আমার মধ্যে কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার স্পৃহা দিন দিন বাড়তে থাকে। মূলত তাদেরই উৎসাহের মধ্যে আমিও মনে মনে সংকল্প করি এখন থেকেই এসব বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে রাখবো।’
তানভীর মোর্শেদ তামীম জানায়, এপার-ওপার দুই বাংলার খ্যাতিমান লেখকের গল্প, উপন্যাস, সাহিত্য বিষয়ক নানা ধরণের বইগুলো সংগ্রহ করে নিয়মিত পড়ে থাকে সে। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকগুলোতে নিয়মিত তার লেখা কবিতা ও প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হয়। তার লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘দুর্নীতির বিস্ফোরণ’, ‘ভালবাসি তোমাকে’, ‘অভিশপ্ত’, ‘ধিক্‌ পৃথিবী’, ‘মানবতা তুমি কি শুনতে পাওনা’, ‘একটি নতুন সূর্য’, ‘ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ’, ‘মা জননী’, ‘কল্পনার পরী’ ইত্যাদি। এছাড়া প্রবন্ধ ও ছোট গল্পের মধ্যে রয়েছে-‘ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত হও’, ‘বাংলা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা-বাঙালি কেন বুঝে না’, ‘বিবেক ও বুদ্ধি’।
সবশেষে খুদে কবি তামীম বলেন, ‘আসলে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কাজ না করলে জীবনে কখনো সফল হওয়া যায় না। ইতিহাসের সাক্ষ্য বলে, যুগে যুগে যারা অমর কাব্য রচনা করে গেছেন তাদের জীবনবোধের পেছনে ছিল প্রবল ইচ্ছাশক্তি। আর তাই প্রবল আত্মবিশ্বাস এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজের সেরাটা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। আমার মধ্যেও সেই আত্মবিশ্বাস এবং উদ্যোম কাজ করছে।’

x