খাল খননের তথ্য চেয়ে সিডিএকে চিঠি চসিকের

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৮ জুলাই, ২০১৮ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
74

জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজের তথ্য চেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা জানতে চেয়ে পৃথক আরো তিনটি সেবাসংস্থার কাছেও চিঠি দেয় চসিক। চট্টগ্রামে সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা স্বাক্ষরিত চিঠিগুলো গতকাল পাঠানো হয়েছে। সিডিএ’র বাইরে অন্য সংস্থাগুলো হচ্ছেচট্টগ্রাম ওয়াসা, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), বাংলাদেশ টেলিকমিনিউকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পাঠানো চিঠিতে ‘জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আগামী এক বছরের সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও এই বর্ষা মৌসুমে কি কি কাজ করা হয়েছে বা করার পরিকল্পনা আছে তার তালিকা প্রেরণ করতে বলা হয়।’ অন্য সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে ‘নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক রাস্তা কর্তনের অনুমতি পত্রসহ নির্দিষ্ট দিন ও তারিখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক) বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রামে সেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তথ্য পাঠাতে হবে।’

চসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে গত ২৬ জুন নগর ভবনে চসিকের উদ্যোগে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে। তবে ওই সভায় সিডিএর কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ওইদিন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম অংশ নিয়েছেন। তাই তিনি অংশ নিতে পারেন নি বলে জানা গেছে। তবে ওই সভায় আলোচ্যসূচিতে অন্যতম ছিল জলাবদ্ধতা ইস্যু।

সেদিন সিডিএর মেগাপ্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগের সুরে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন নালা থেকে মাটি তুলতে গিয়ে স্ল্যাবগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে। ওগুলো আবার তারা ঠিক করে দেয়নি। এই স্ল্যাবগুলো ফুটপাত হিসেবে লোকজন ব্যবহার করতো। এখন ভেঙ্গে ফেলায় সাধারণ লোকজনের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না। আর জনগণ তো অত কিছু না জেনে সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ করছে। এই কারণেই যারা কাজ করছেন তারাও যেন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন তারাও যেন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। মেয়র বলেন, অনেক জায়গায় মাটি তুলে রেখে দিচ্ছে। এখন মানুষ ভাবছে, আমরা রেখে দিচ্ছি। তাই আমরা বিষয়গুলো সিডিএকে জানিয়ে দিব। তারা যেন দায়িত্ব নিয়ে কাজগুলো করেন এবং কাজ করতে গিয়ে যেন জনগণের অসুবিধা ও দুর্ভোগ না হয়।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল পুনঃখনন, সমপ্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে সেনাবহিনীর সহায়তায় পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। নানা প্রক্রিয়া শেষে গত ২৮ এপ্রিল নগরীর চশমা খাল ছাড়াও মুরাদপুর এলাকার সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন খাল ও বহদ্দারহাট মোড়ের বড় নালা পরিষ্কার করার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় বর্তমানে কি ক কাজ করা হচ্ছে তা জানাতে ২৫ জুন স্থানীয় দৈনিকে ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ দেয় সিডিএ।

এদিকে ওয়াসা, পিডিবি ও কেজিডিসিএলকে দেয়া চিঠি প্রসঙ্গ জানা গেছে, রাস্তা কাটতে গিয়ে অনেক সময় চসিকের কাছ থেকে অনুমোদন নেয় সংস্থাগুলো। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগ জানেন না। এইক্ষেত্রেও হয়তো অনেক সময় ‘কনজেশন’ (বিভ্রান্তি) তৈরি হয়। কারণ রাস্তার সংকীর্ণতার কারণে যানজট বেড়ে গেলে ট্রাফিক বিভাগ সমালোচনার মুখে পড়ে। এ ট্রাফিক বিভাগের প্রস্তাব ছিল, তাদেরকেও যেন আগে অবহিত করা হয়। তাই গতকাল চিঠি পাঠানো হয়েছে।

x