খালেদা-তারেকের আস্থা হারিয়েছেন মওদুদ : হাছান

‘রিজভী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন’

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ২০ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
166

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদকে স্বয়ং খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানও ‘সন্দেহের চোখে’ দেখেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রকারান্তরে ১/১১এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।

গতকাল নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আস্থা হারিয়েছেন মওদুদ আহমদ। কিছুদিন আগে সংবাদ বের হয়েছে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের বলেছেন মামলায় যেন মওদুদ আহমদকে রাখা না হয়।’ নোয়াখালীতে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানাতে হাছান মাহমুদ এ সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, মওদুদ আহমদকে নোয়াখালীতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি নাটক সৃষ্টি করছেন, যাতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এবং জনগণের নজরে আসতে পারেন। বিএনপি নেতাকর্মীরাও মওদুদকে সন্দেহের চোখে দেখেন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। কখনও মওদুদ আহমদ ঈদের আগে বাড়িতে যেতেন না। ক্ষমতায় থাকাকালীন এবং গত কয়েক বছর ধরে তিনি বাড়ি যেতেন ঈদের পরে। এবার তিনি ঈদের চারপাঁচদিন আগে বাড়ি গেছেন। গত রমজানের ঈদেও গেছেন।

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে মওদুদ আহমদের ইন্ধন ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত ঈদের আগে কোটাবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। সেখানে কিছু করতে না পেরে ঈদে বাড়ি গিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে নাটক সাজিয়েছিলেন। কিশোরকিশোরীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে সরকারের পূর্ণ সমর্থন ছিল জানিয়ে হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব দাবি মেনে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। সেই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মওদুদ আহমদসহ আরও অনেকেই ২৫৩০ বছরের যুবক মহিলাদের স্কুলের ড্রেস পরিয়ে পেছনে ব্যাগ ঝুলিয়ে কোমলমতি সাজিয়েছেন।

তাদের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে কিশোরকিশোরীদের ঘাড়ের ওপর চড়ে বন্দুক শিকারের যে পাঁয়তারা, সেটি ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েই অবরুদ্ধ হওয়ার এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে মনে করেন হাছান।

রিজভী আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কর্মকাণ্ডেই নাকি একএগারোর পথ প্রশস্ত হচ্ছে। এ কথা বলার মাধ্যমে রিজভী আহমেদ প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন তারা একএগারোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে যুক্ত আছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র কোথায় হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে মোটামুটিভাবে সব খবরই সরকারের কাছে আছে।

. হাছান মাহমুদ বলেন, আগস্ট আসলেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট কালোরাত্রিতে হত্যা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়েছিল। এবার কিশোরকিশোরীদের ঘাড়ে চড়ে যে ষড়যন্ত্র তাও আগস্ট মাসে হলো।

এক প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির লোকজন হামলা করেছে। গুজব ছিল। এগুলো দিবালোকের মতো স্পষ্ট। একটি পক্ষ ড. কামাল হোসেনসহ যারা হামলায় যুক্ত ছিল তাদের মুক্তির দাবিতে সরব। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা হলো সেটি নিয়ে কথা নেই। আওয়ামী লীগের একজন নেতার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হলো। ২১ জন গুরুতর আহত হলো। ৫০ জন আহত হলো। এভাবে গুজব ছড়ানো হলো সেগুলো নিয়ে কোনো কথা নেই। তাদের কাছে প্রশ্ন, এগুলো নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই কেন?

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

x