খালেদার মাইল্ড স্ট্রোক

ইউনাইটেডে ভর্তির পরামর্শ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পড়ে যাওয়ার বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের জানা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা ব্যুরো

রবিবার , ১০ জুন, ২০১৮ at ৩:০২ অপরাহ্ণ
372

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কারাগারে তার সঙ্গে কথা বলে তাদের মনে হয়েছে কয়েকদিন আগে তিনি হয়তো মাইল্ড স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। গতকাল শনিবার বিকালে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তার চিকিৎসকরা। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পর বেরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তাদের পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গত ৫ জুন দুপুর বেলা হঠাৎ করে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং ৫/৭ মিনিট আনকনসাস ছিলেন।

উনি মনেই করতে পারছেন না, কী ঘটেছিল? তাকে, তার এটেন্ডেন্স যে মেয়ে ছিল, তারা অনেক কষ্ট করে বসিয়েছে। এখন আমরা চেক করে যেটা দেখেছি, এটাকে বলে টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট ইশ্চেমিক অ্যাটাক)। একটা মাইল্ড ফর্মে স্ট্রোকের মতো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ এই বিষয়টি আরও পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে সুপারিশ করেছেন তার ব্যক্তিগত এই চিকিৎসকরা। অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ মামুন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার পড়ে যাওয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। পরীক্ষানিরীক্ষার পর রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর বিডিনিউজ বাংলানিউজ ও বিবিসি বাংলার।

খালেদা জিয়াকে কেমন দেখেছেনজানতে চাইলে ডা. এম এফ সিদ্দিকী বলেন, তার কথায় কিছুটা জড়তা থাকলেও ভাব বিনিময় করতে পারছেন। ‘উনি এখন মাঝে মাঝে ব্যালেন্স রাখতে পারেন না। উনি হাঁটলে একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে মনে হচ্ছে যে উনি পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।’ অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, যেটা সবচেয়ে বিপজ্জনক, সেটা হচ্ছেটিআইএ যদি কারও হয়, তাহলে সেটা ইন্ডিকেট করে যে সামনে তার একটা বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিয়ে চার পৃষ্ঠার একটি সুপারিশমালা কারা কর্তৃপ কে দিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। রিপোর্টে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা আছে, কী ঘটেছে, কী হচ্ছে এবং সামনে তার কী টিট্রমেন্ট করা উচিৎ। মেডিসিনের এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমরা মনে করি, তার কতগুলো বিশেষ ধরনের পরীক্ষা করা দরকার। সেজন্য আমরা বলেছি, এসব সুবিধা রয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। উনাকে খুব দ্রুত ভর্তি করানোর জন্য আমরা একটা সাজেশন দিয়ে এসেছি।’

বিএনপি আগে থেকেই ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদাকে ভর্তির দাবি জানিয়ে আসছে। নেত্রীর সুচিকিৎসার দাবিতে রোববার জেলামহানগরে ও ঢাকায় থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি। চার মাস ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ হলেও সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না বলে তার দলের নেতাদের অভিযোগ। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাঁচ দফা আবেদন জানানোর পর এই প্রথম অনুমতি পেলেন। শুক্রবার রাতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘নিকট আত্মীয়রা দেশনেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে তার (খালেদা জিয়া) সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা হৃদয় বিদারক। তারা বলেছেন, গত ৫ জুন দেশনেত্রী দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন, তিন সপ্তাহ যাবত তিনি ভীষণ জ্বরে ভুগছেন, যা কোনো ক্রমেই থামছে না।’

তবে গত মার্চের শেষে খালেদা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। চার সদস্যের ওই বোর্ডের সদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ‘গুরুতর নয়’। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নানা পরীক্ষা করা হয়। এক্সরে করানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসাই দেওয়া হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সঙ্গে শনিবার কারাগারে গিয়েছিলেন ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল কবীর। তিনি বলছেন, অজ্ঞান হয়ে যাবার কথা আগে তারা জানতেন না। আজ (গতকাল) উনি যে অজ্ঞান হবার কথা বলেছেন, এটা উনি কারাগারের চিকিৎসকদের জানাননি, এখন আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। এছাড়া উনার চিকিৎসক দলের সঙ্গে আমি ছিলাম। তাদের পরামর্শ কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি। এখন কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কি করবেন, কিভাবে করবেন।

x