খালেদার জামিন ৭ দিন বেড়েছে

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৪:২৭ অপরাহ্ণ
77

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরুর পর এ মামলায় তার জামিনের মেয়াদ সাত দিন বাড়িয়েছে আদালত। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আপিল শুনানি শেষ করার জন্য আগামী এক সপ্তাহে শুনানির দিনক্ষণও ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট। খবর বিডিনিউজের

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে এ শুনানি শুরু হয়।

প্রথম দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী মামলার পেপারবুক থেকে এফআইআর ও চার্জশিট পড়ে শোনান । পরে আদালত রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে। খালেদার আইনজীবীদের মধ্যে মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন ও মাহাবুব উদ্দিন খোকন এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

শুনানির পর মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী রবি থেকে বৃহস্পতিবার কখন এ মামলার আপিল শুনানি হবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে হাইকোর্ট। রবি ও সোমবার শুনানি শুরু হবে বেলা ২টায়। মঙ্গল ও বুধবার পুরো দিন আদালত এ মামলা শুনবে। বৃহস্পতিবার আবার বেলা ২টা থেকে শুনানি হবে। আর খালেদা জিয়াকে এর আগে হাইকোর্ট চার মাসের যে জামিন দিয়েছিল, তার মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত এদিন জামিনের মেয়াদ ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।‘

এ বিষয়ে মওদুদ বলেন, ‘১৯ জুলাই আবার আমরা জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করব। এটার ব্যাপারে কোনো অসুবিধা হবে না বলে মনে করি।’

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা এ মামলার রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান।

সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের জেল ও জরিমানা করা হয় রায়ে।

রায়ে বলা হয়, সরকারি এতিম তহবিলের টাকা এতিমদের কল্যাণে ব্যয় না করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়াসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামিরা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধ করেছেন।

ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ তিনজন কারাবন্দি। খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি দুজন হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

আর তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক।

বিচারিক আদালতের এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে পরে হাইকোর্টে আপিল এবং জামিন আবেদন করে খালেদা জিয়া। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদও আপিল করেন। অন্যদিকে খালেদার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করে দুদক।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে।

সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের এ বেঞ্চকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

আপলি নিষ্পত্তির জন্য ওই সময় বাড়াতে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে শুনানি করে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার বলেছে, আপিলের শুনানি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ না হলে ওই রিভিউ আবেদন বিবেচনা করা হবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা রিভিউ আবেদন ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে এ আদেশ দেয়।

আদেশে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে এ আপিল শুনানির যে আদেশ রয়েছে সে অনুযায়ী আপনারা আপিল শুনানি শুরু করেন। তবে এ সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করতে না পারলে আপিল বিভাগ বিষয়টি বিবেচনা করবে।’ আপিল বিভাগের ওই আদেশের পর হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি শুরু হয়।

মওদুদ জানান, তাদের রিভিউ আবেদনটি আপিল বিভাগ খারিজ করেনি, বিবেচনাধীন রেখেছে। আর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল শুনানি শেষ না হলে তখন যেহেতু সময়ের আবেদন আপিল বিভাগ বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে সেহেতু আপিল নিষ্পত্তি করতে সময়ের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এখন ৩১ জুলাইয়ের পরেও শুনানি চলতে পারে, সে সুযোগটা দেয়া হয়েছে।

এদিকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সম্পূরক পেপারবুক চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইজীবী এ কে এম এহসানুর রমান।

তিনি বলেন, ‘মামলা সংশ্লিষ্ট ৮ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নতিপত্রের সংযুক্তি চেয়ে সম্পূরক পেপারবুকের আবেদন করা হয়েছে। আদালতে সেটি মেনশন করা হলে আদালত বলেছে রোববার এ আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।’

খালেদা জিয়া আপিল ছাড়াও এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামি সলিমুল হক কামাল এবং শরফুদ্দিন আহমদের আপিল এবং খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের আবেদন (রিভিশন) এ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে।

x