খালেদাকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার আদালতের, প্রধানমন্ত্রীর নয়

রিজভীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
289

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার জন্য দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ আহ্বানের (বেগম জিয়ার মুক্তি) মধ্য দিয়ে রিজভী আহমেদ ‘আইন ও আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন’ করেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিএনপিকে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল চট্টগ্রামে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন ড. হাছান মাহমুদ। সেখানে তিনি বলেন, ‘সকাল বেলা দেখলাম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার জন্য। এই আহ্বান জানিয়ে তিনি আইন এবং আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন। অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকারন্তরে এটি বলেছেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো তাকে (বেগম খালেদা জিয়া) শাস্তি দেননি। তাকে শাস্তি দিয়েছেন আদালত। আদালতের মাধ্যমেই তো তাকে মুক্ত করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেই। সে এখতিয়ার আদালতের। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী আহমেদ এবং বিএনপি দলগতভাবে আইন এবং আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।’
ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন, তিনি (রিজভী আহমেদ) বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ’। বেগম খালেদা জিয়া তো আগে থেকেই অসুস্থ। আর টেলিভিশনে বেগম খালেদা জিয়ার যে চেহারা আমরা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর দেখলাম, সেখানে কি অসুস্থতার চাপ ছিল? আপনারা কি অসুস্থতার চাপ দেখেছেন? বেগম খালেদা জিয়া ঠিক আগের মতই পরিপাটি বেশভূষা, সানগ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছেন। এখানে তো কোনো অসুস্থতার চাপ আমরা খালেদা জিয়ার চেহেরায় দেখতে পাই নি।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি (রিজভী আহমেদ) আরো কিছু কথা বলেছেন। যেগুলো অশোভন। যেগুলো রাজনৈতিক ভদ্রতা এবং শালীনতায় বজায় রাখেননি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কি মনে আছে, রিজভী আহমেদ এবং বিএনপি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তখন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। সেই গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমসানসহ আমাদের ২৪ জন নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। পাঁচশ’র বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। আমি নিজেও আহত হয়ে অনেকদিন হাসপাতালে ছিলাম। এখনো আমার শরীরে ৪০টি স্প্লিন্টার আছে।’
এসময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা হলো এবং এটা নিয়ে যখন সংসদে কথা হল, তখন তার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমাদের নেত্রী নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন। বিএনপি, আপনাদের কী মনে আছে? আহসান উল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া সাহেবের হত্যার পর সংসদে একটি শোক প্রস্তাব আনতে চেয়েছিলাম, সেই শোক প্রস্তাব আনতে দেয়া হয়নি। হাস্যরস করা হয়েছিল।
এসময় হাছান মাহমুদ বলেন, রিজভী আহমেদ, বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, আপনারা আইনি লড়াই করুন। কিন্তু গত এক বছরে আপনারা যেভাবে আইনি লড়াই করেছেন, এতে সাধারণ মানুষ মনে করে আপনাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল।
প্রসঙ্গত, গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘মিথ্যা দণ্ড দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সাধ পূর্ণ করলেন, এবার মুক্তি দিন। প্রধানমন্ত্রী আপনি দেয়ালের ভাষা পড়ুন, চারিদিকে মানুষ চোখে-মুখে কী বলছে, বোঝার চেষ্টা করুন। পৃথিবীটা ক্ষণিকের, কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের। এখনও সময় আছে, এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, তার অসুস্থতা দিনে দিনে বাড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, পা ফুলে গেছে, হাঁটতে পারছেন না। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার পূর্বের অসুস্থতা এখন আরও গুরুতর রূপ ধারণ করেছে।

- Advertistment -