খাগড়াছড়িতে ৫ বছরেও চালু হয়নি আবহাওয়া অফিসটি

জনবল সংকটসহ নানা অসুবিধা

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

শনিবার , ২৩ জুন, ২০১৮ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
65

খাগড়াছড়িতে নির্মাণের ৫ বছর পরও চালু হয়নি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি। জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভাবে এটি চালু করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন তাদের বেতনভাতা বাবদ প্রতিমাসেই সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল টাকা গচ্চা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে।

সূত্রে জানায়, জেলার দিঘীনালা উপজেলার পোমাং পাড়ায় অবস্থিত এই আবহাওয়া ভবন। মূলত পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়ার ডাটা ৩ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে পূর্বাভাস জানানো, পার্বত্য অঞ্চলে আবহাওয়া উপযোগী চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক গবেষণা এবং সারা দেশে দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করা থাকলেও জনবল সংকট ও কার্যকরী উদ্যোগের অভাবে সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। এছাড়া আবহাওয়া ভবনের পাশে লাগোয়া সেগুন বাগানের কারণে তথ্য প্রেরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব আবহাওয়া নীতিমালা অনুযায়ী, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি থেকে ৩৩০ গজ দূরত্বের মধ্যে বাগান বা বৃক্ষ থাকলে সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণে জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু দীঘিনালার পোমাং পাড়ায় স্থাপিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পাশেই সেগুন বাগান থাকায় ঠিকমত সংকেত পাঠানো যাচ্ছে না। এই নিয়ে সেগুন বাগান মালিকের সাথে কার্যকরী আলাপ না হওয়ায় তা ঝুলে রয়েছে বলে জানা যায়। ফলে দীর্ঘদিন পরও কার্যক্রম চালু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে আবহাওয়া ভবনের কার্যক্রম চালানোর প্রাক্কালে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ জন কর্মকর্তা কর্মচারির বেতনভাতা বাবদ বছরে গচ্চা যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন বাবদ পাঁচ বছরে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ টাকা। সরেজমিনে ঘুরে এবং নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ২০১৪ সালে আবহাওয়া ভবনের দু’টি পাকাভবন নির্মাণসহ আবহাওয়া পরিমাপক যন্ত্র বসানো হয়। যন্ত্র চালানোসহ আবহাওয়া ভবনটি পরিচালনা করার জন্য জনবল থাকার পরও আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনো পর্যবে ণ কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরে পাঠাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে একজন যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষক ও একজন বেলুন মেকার (রিপোর্ট সংগ্রহকারী) সহ ৪ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে একজন উচ্চ পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে এখানে বদলি হয়ে আসা পর্যবেক্ষক কর্মকর্তা ধর্মজ্যোতি চাকমা বলেন, ‘উচ্চ পর্যবে ক নিয়োগের পরও আবহাওয়া ভবনটির কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সর্বমোট ১০ কর্মকতাকর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আমরা আছি মাত্র ৫ জন। তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা থেকে বার্তা প্রেরণ সংক্রান্ত কোনো সিন্ধান্ত না আসায় এই কেন্দ্র থেকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় দপ্তরে কোনো বার্তা পাঠানো যায়নি।’

পাহাড়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিতে প্রভাবের যাবতীয় ডাটা ঢাকায় পাঠানোর পর গবেষণায় কাজে লাগানোর কথা। ২০০৯ সালে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৪ সাল বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়। পর্যবেক্ষাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক এএফএম গাউসুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে ডেটা প্রেরণ বন্ধ আছে। ভবনের পাশে সেগুন বাগান থাকায় কোনো ডেটা প্রেরণ করা যাচ্ছে না। এই নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া আবহাওয়াবিদসহ বেশকিছু পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisement