খাগড়াছড়িতে পানিবন্দী হাজারো মানুষ, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ
125

পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে খাগড়াছড়িতে বন্যা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নীচে। মঙ্গলবারও সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা স্থায়ী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে। হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পানি উঠেছে খাগড়াছড়ির বাসটার্মিনাল থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত। জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীতে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, বটতলী, কল্যাণপুর, ভাঙাব্রিজ, বাঙ্গালকাঠি, চেঙ্গীব্রিজ এলাকা, কালাডেবা ও কমলছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের শঙ্কায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসাজেকবাঘাইছড়ি, দীঘিনালালংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে জেলার দীঘিনালায়ও বন্যা পরিস্থিতি নাজুক । সোমবার মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন বাড়িণ্ডঘরে পানি ঢুকে যায়। দীঘিনালার মেরুং ,বোয়ালখালী ও কবাখালী ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষ পানি বন্দি। মাইনী নদীর স্রোতে ভেসে গেছে ক্ষেতের ফসল, গোলার ধান। এদিকে বন্যার্তদের উদ্ধার করছে দুই দেশী বোট। দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনওর নেতৃত্বে উদ্ধারকাজ চলছে। দীঘিনালা ইউএনও শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন , মঙ্গলবার সকাল থেকে মাইনী নদীর দু’পাড়ের পানি বন্দি মানুষকে উদ্ধারের কাজ চলছে । এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানির নীচে ডুবে গেছে মেরুং বাজার। দীঘিনালার হাচিনসনপুর, দক্ষিণ হাচিনসনপুর,পুরাতন বাজার,থানা বাজার,বড়াদামসহ প্রায় প্রতিটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এদিকে বর্ন্যাতদের জন্য বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,দীঘিনালা কলেজসহ প্রায় ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন। পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে মাটিরাঙ্গায়। মাটিরাঙ্গাতানাক্কাপাড়া সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে জেলার পানছড়িতে চেঙ্গী নদীর পানি বাড়ার কারণে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন উত্তর নালকাটা ,নালকাটা ও মধুমঙ্গল পাড়ায় তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করেছে। তবে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে মহালছড়ি ও মাইসছড়িতে বন্যার্তদের জন্য গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না নাসরিন ঊর্মি জানান,‘ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মহালছড়ি ও মাইসছড়িতে ৮০টি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

জেলা সদর ও বন্যা কবলিত দীঘিনালা উপজেলা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম । তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত জেলার কোথাও বড় ধরনের পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার প্রায় ৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকা সমূহে শুকনো খাবার এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি দিচ্ছে প্রশাসন ।

x