খাগড়াছড়িতে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যা

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নৃশংসতা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ
183

খাগড়াছড়িতে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে বখাটেরা। সোমবার গভীর রাতে খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার দুর্গম বড়পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণী একই গ্রামের নলমোহন ত্রিপুরার মেয়ে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বড় পাড়া গ্রাম। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, বেশ কিছুদিন থেকে নিহত তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল এলাকার বখাটে যুবক কমল ত্রিপুরা। বৈসাবী উৎসব চলাকালীন সময়েও সে তরুণীকে বিয়ে করার জন্য নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু তরুণী বিয়েতে রাজি ছিল না। সোমবার ধর্ষিতার মা সরলেখা ত্রিপুরা দীঘিনালা বড় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এসময় বাড়িতে ধর্ষিতা একাই ছিল। রাতে বখাটে কমল ত্রিপুরা তার দুই বন্ধু রনেল ত্রিপুরা ও কিরণ ত্রিপুরাকে নিয়ে বড় পাড়ার ধর্ষিতার বাড়িতে যায়। তারা এসময় মদ্যপ অবস্থায় ছিল। বাড়ি থেকে বখাটে কমল ত্রিপুরা ধনিতার মাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়। এসময় বখাটে কমলকে বিয়ে না দিলে তার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়। সকালে গ্রামবাসী বাড়িতে ধর্ষিতার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
নিহতের বড় বোন কণিকা ত্রিপুরা জানান, সোমবার মা আমাদের বাড়িতে (দীঘিনালা) বেড়াতে যায়। রাতে বখাটে কমল আমার মাকে ফোন দিয়েছিল। এসময় সে মাকে আমার ছোট বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় এবং বিয়ে না দিলে আমার ছোট বোনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। মঙ্গলবার সকালে এলাকার লোকজন আমাদের বাড়িতে বোনের মৃতদেহ দেখে আমাদের খবর দিলে আমরা দীঘিনালা থেকে ছুটে আসি।
সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা জানান, সোমবার রাতে ধর্ষিতা তরুণী বাড়িতে একাই ছিল। রাতে বখাটে কমল ত্রিপুরা মদ্যপ অবস্থায় গিয়ে ধর্ষিতার বাড়ি গিয়ে তাকে হুমকি দেয়। সকালে তার লাশ দেখে স্থানীয়রা আমাকে ফোন করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে গণধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ধর্ষক কমল ত্রিপুরা ও তার বন্ধু রনেল এবং কিরণ ত্রিপুরাকে আটক করেছে।
ভিকটিমের মা সরলেখা ত্রিপুরা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহতের লাশ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

x