খাগড়াছড়িতে অস্ত্র ও গুলিসহ ইউপিডিএফ নেতার আত্মসমর্পণ

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আবেদন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
18

ইউনাইটেড পিপলস্‌ ডেমোক্রেডিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নানিয়ারচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক আনন্দ চাকমা সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। আত্মসমর্পণের পর তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আবেদনও করেছেন সরকারের কাছে। এসময় তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে তিনি এসব কথা বলেন।
বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, বুধবার রাতে মহালছড়ি সেনা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদের কাছে অস্ত্র ও গুলিসহ তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। আনন্দ চাকমা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মনোরঞ্জন চাকমার ছেলে। আত্মসমর্পণের সময় তিনি একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন জমা দেন বলে জানান ওসি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন,
‘বুধবার রাতে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ মহালছড়ি সেনাবাহিনী কাছে আত্মসমর্পন করেছি।’ এসময় পাহাড়ে চলমান সংঘাতে জীবনের নিরাপত্তা না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩৬ বছর ধরে পাহাড়ের জঙ্গলে জঙ্গলে জীবনের অনেটকা সময় পার করেছি। গত ৪ বছর ধরে তিনি ইউপিডিএফ এর সঙ্গে জড়িত বলে জানান। সরকার ঘোষণা দিলে অনেক ইউপিডিএফ নেতাকর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত উল্লেখ করে বিগত সময়ে হত্যাসহ নিজেদের নেতাকর্মীদের নানা ঘটনায় উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন।
আনন্দ তার স্ত্রী, এক ছেলে ও স্নাতক ৩য় বর্ষে পড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে উল্লেখ করে অনেক ভেবে-চিন্তে ‘অন্যায়ের পথ ছেড়ে’ সুস্থ, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।
সদরের ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু বিডিনিউজকে বলেন, আনন্দ এখন সেনা হেফাজতে আছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

x