খবরের নিচে চাপা পড়ে খবর

ক্যাসিনো অভিযান, আবরার হত্যাকাণ্ড চাপা পড়ুক, চায় না মানুষ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
121

প্রতিনিয়ত খবরের নিচে চাপা পড়ে পুরনো খবর। দেশজুড়ে ক্যাসিনো কাণ্ডের খবরকে টপকে গেছে আরেকটা খারাপ খবর। শুধুমাত্র ফেসবুকে স্ট্যাটাস সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে। গত তিনদিন ধরে আবরার হত্যাকাণ্ডে উত্তাল গোটা দেশ; সমালোচনার ঝড় বইছে বিশ্বব্যাপী। এতদিন ধরে চলমান ক্যাসিনো অভিযান ঘিরে আমজনতা ছিল দারুণ খুশি। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দাপিয়ে বেড়ানোরা ‘থমকে’ গেছেন। ক্যাসিনোকাণ্ড, দখলদারিত্ব, হাউজি-জুয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানান অপকর্ম করে দুই হাতে টাকা কামাচ্ছেন; তারা হতোদ্যম। রাজনীতিতে যত বিরোধ থাকুক না কেন র‌্যাব-পুলিশের চলমান শুদ্ধি অভিযানে প্রায় সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছে। দেশে ‘সরকারের শুদ্ধি অভিযান’ এর পক্ষে কার্যত জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। মানুষ আইন শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর অভিযানে পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছেন। এ অবস্থায় আবরার খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তবে ক্যাসিনো অভিযান, আবরার হত্যকাণ্ড ধামাচাপা পড়ুক, তা কোনভাবেই চায় না সাধারণ মানুষ।
ব্যাংক কর্মকর্তা আরেফীন ইকবাল এ প্রসঙ্গে আজাদীকে বলেন, ক’দিন আগেও সকালে খবরের কাগজের পাতা খুললেই ছিল ক্যাসিনো সম্রাট, ক্যাসিনো খালেদ, জিকে শামীমদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফেসবুক খুললেও সবার স্ট্যাটাসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ক্যাসিনো কাণ্ড উঠে আসতো। হোয়্যাটসঅ্যাপ মেসেজের হাসি-ঠাট্টা-মস্করার বিষয়বস্তুও ছিল ক্যাসিনো। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া একটাই শব্দ উচ্চারিত হতো ‘ক্যাসিনো’। আর এখন সর্বত্র আবরার। ফেসবুকে প্রকাশ করা আবরার ফাহাদের একটি সেলফি, আবরার হত্যা: শেরেবাংলা হলে সেই রাতে যা ঘটেছিল, রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে আবরারকে কোলে করে নিয়ে আসার চেষ্টা, আবরারের মৃত্যুর আগে ও পরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরগরম পুরো দেশ। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে, আর আমরা নতুন ঘটনার খবরে বিস্মৃত হই একদিন আগে কী হয়েছিল।
স্কুল শিক্ষক হিমেল বিশ্বাস বলেন, জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবির আর অফিস সহকারীর অন্তরঙ্গ ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও এক সংবাদ পাঠিকাকে তুলে এনে বিয়ে করা ও তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেই প্রভাবশালী ডিআইজির এখন ঠিকানা হয়েছে কারাগার। ক’দিন আগে খুলনার জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক নারীকে গণধর্ষণের পর ইয়াবা কেসে ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। একটি ঘটনা চাপা দিচ্ছে অন্য ঘটনাটি। আমরা এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। দেখে মনে হয় যেন প্রতিটি ঘটনা ধাপে ধাপে সাজানো। একটিকে চাপা দিতে প্রস্তুত অন্যটি। আসলে কিন্তু তা নয়। ডেঙ্গু চাপা দেয় রোহিঙ্গার আইডি, রোহিঙ্গাদের আড়াল করে পেঁয়াজের ঝাঁঝ।
ব্যবসায়ি ইব্রাহিম খলিল বলেন, সবকিছুই আমাদের যেন গা সওয়া হয়ে গেছে। তবু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, তা আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে তাঁর সরকার। তবে বিরোধী দল বিএনপির নেতারা এই অভিযানের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটা আইওয়াশ, কদিন পর থেমে যাবে। তাদের কথাকে মিথ্যে প্রমাণিত করবেন তিনি, এ বিশ্বাস আমার আছে। আমরা সাধারণ মানুষ চাই না, পাবনার বালিশ কাণ্ড, ফরিদপুরের পর্দা ক্রয় কাণ্ড, রংপুরের হাসপাতালের মেশিন ক্রয়, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা চুরির ঘটনার মতো একের পর এক ঘটনা ঘটতেই থাকুক। আমরা চাই এ শুদ্ধি অভিযান চলতে থাকুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। সমাজের অসংগতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। জানি কঠিন কাজ, কিন্তু আমি করব।’ তাঁর উপর আস্থা বিশ্বাস আছে, থাকবে।

x